বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক আ ত্মহ ত্যা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক আ ত্মহ ত্যা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারিবারিক কলহের ধরে সানিয়া আক্তার (১৯) এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের সকদিরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সানিয়া সকদিরামপুর গ্রামের প্রবাসী নাজমুল শেখের স্ত্রী। সানিয়ার পিত্রালয় বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। তবে আত্মহত্যার ঘটনাটি রহস্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনাটি সন্দেহ জনক দাবি করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, প্রায় ১ বছর পূর্বে সানিয়া ও নাজমুল শেখের পারিবারিক ভাবে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের ৪০ দিনের একজন কন্যা সন্তান রয়েছে। বিবাহের পর থেকে বিভিন্ন সময় নাজমুল শেখ ও তাঁর পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য সানিয়াকে চাপ দিতেন এবং বিভিন্ন সময় মারধরও করতেন। ঘটনার আগের দিন রাতে নাজমুল সানিয়াকে মারধর করার পর ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে এবং তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।
নিহতের স্বামী নাজমুল শেখ জানান, আমাদের পারিবারিক কোন কলহ ছিলো না। তবে সানিয়া কি কারনে আত্মহত্যা করেছে আমি জানিনা। আপনি তাকে হত্যা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল শেখ বলেন, ময়না তদন্তেররিপোর্ট আসলেই তা জানতে পারবেন।
এ দিকে আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সানিয়ার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, আত্মহত্যার ঘটনাটি দুঃখ জনক। আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছি।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।