বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে ওসি এলএসডির হাতে লাঞ্ছিত খাদ্য কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
হাজীগঞ্জে ওসি এলএসডির হাতে লাঞ্ছিত খাদ্য কর্মকর্তা

হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে দায়িত্ব পালনকালে ওসি এলএসডি মনির হোসেনের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (খাদ্য কর্মকর্তা) ফারজানা আক্তার মিলি। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার সকালে। নিয়মিত রুটিন কাজের অংশ হিসেবে পাক্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের লক্ষ্যে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি হাজীগঞ্জ উপজেলা খাদ্য গুদামে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি ওসি এলএসডি মনির হোসেনের কাছে বিভিন্ন খাদ্য গুদামের মজুদ তালিকা, খাদ্যশস্যের আগমন-নিগমন, ডিউরেশন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চান।

অভিযোগ রয়েছে, তথ্য প্রদানে গড়িমসি করার একপর্যায়ে ওসি এলএসডি মনির হোসেন উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং প্রকাশ্যে মারমুখী ও অশোভন আচরণ করেন। এতে গুদাম এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় খাদ্য গুদামের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও কর্মচারী জানান, “একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আমরা সবাই হতবাক হয়ে যাই।”

Model Hospital

ঘটনার একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি। তিনি গুদাম ত্যাগ করে বাইরে বের হয়ে যান এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি বলেন, “আমি সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য গুদামে গিয়েছিলাম। পরিদর্শনের সময় অনিয়মের বিষয় উঠে আসলে আমার সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ করা হয়। একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে এই ঘটনা আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

এই ঘটনার বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ওসি এলএসডি মনির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে একজন নারী কর্মকর্তার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নারীর মর্যাদার চরম লঙ্ঘন। দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।