আজ ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম কলিমউল্লাহর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী
আজ ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম কলিমউল্লাহর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে এই কিংবদন্তিতুল্য সংগ্রামীকে স্মরণ করেছে। পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চেয়েছেন।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ—বাংলার ইতিহাসের এই দুই গৌরবময় অধ্যায়ে যাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বি এম কলিমউল্লাহ। ভাষার অধিকার রক্ষায় তিনি ছিলেন আপসহীন, আর মহান মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা একজন সংগঠক ও সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম আজও নতুন প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়।

বি এম কলিমউল্লাহ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চাঁদপুর অঞ্চলে সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সম্মুখ সমরের যোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম কলিমউল্লাহ ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১০৯ বছর (মতান্তরে ৯৯ বছর)। তিনি এক ছেলে ও সাত মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরে তাঁর পৈত্রিক বাড়ি রামচন্দ্রপুর গোপালখোর ভুঁইয়াবাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়।
বি এম কলিমউল্লাহ শুধু একজন ভাষা সৈনিক বা মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি ছিলেন সংগ্রাম ও মানবিকতার প্রতীক। তাঁর মতো মানুষেরাই জাতির ইতিহাসকে আলোকিত করে রাখেন।
ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম কলিমউল্লাহর আদর্শ ও সংগ্রামী জীবনের কথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্মরণসভা ও নানা সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁর ত্যাগ ও দেশপ্রেম তুলে ধরার দাবিও জানান বিশিষ্টজনরা।





