হাজীগঞ্জে ৮ মাদ্ররাসায় সরকারি চাল বিতরনের পর ডিও বাতিল!
হাজীগঞ্জের ৮টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সরকারি চালের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ঘটনা প্রশাসন ও মাদ্রাসা অঙ্গনে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

৪ জানুয়ারি সরজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, উপজেলার হায়দার আলী কোরানিয়া মাদ্রাসা মসজিদ কমপ্লেক্স ও এতিমখানা, রাজারগাঁও দারুসসুন্নাত সুন্নাহ সালেহা সুন্নিয়া মাদ্রাসা, আহমেদাবাদ দারুল কুরআন মাদ্রাসাসহ মোট ৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বর মাস থেকে সরকারি চাল খাচ্ছে। কিছু স্থানে এখনো চালের বস্তা সম্পূর্ণ রয়েছে, তবে অনেক স্থানে চাল সম্পূর্ণভাবে খাওয়া হয়ে গেছে।

নিয়ম অনুসারে এসব মাদ্রাসায় এই সময় সরকারি চালের বস্তা থাকার কথা নয়। এই প্রশ্ন উঠে—কোথা থেকে এসেছে এই সরকারি চাল? বিষয়টি স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১ নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের সাতটি মাদ্রাসা সহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি প্রতিষ্ঠান ১.৫ মেট্রিক টন করে সরকারি জিআর খাতে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট সাড়ে ১১ মেট্রিক টন সরকারি চাল উত্তোলনের জন্য ৮টি ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ইস্যু করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন ডিওগুলো পড়ে থাকায় কেউ চাল উত্তোলন করতে না আসায় ১ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারজানা আক্তার মিলি সব ডিও বাতিল করেন।
তবে অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাসের শুরুতে স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের সহায়তায় খাদ্য গুদাম থেকে এসব সরকারি চাল সংগ্রহ করেছেন মাদ্রাসার প্রধানরা। কিন্তু সরকারি কাগজপত্র অনুযায়ী এখনও চাল উত্তোলন করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন হচ্ছে, কাগজপত্র ছাড়াই এসব চাল কীভাবে মাদ্রাসায় পৌঁছেছে? যেসব মাদ্রাসার ডিও বাতিল হয়েছে, তারা কীভাবে এক মাস আগে চাল পেয়েছে, তা এখনও অজানা। বিষয়টি রহস্য এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আহমেদাবাদ দারুল কুরআন মাদ্রাসার দায়িত্বশীল শরিফুল ইসলাম বলেন, “মেম্বারসহ হাজীগঞ্জে গিয়ে আমরা স্বাক্ষর দিয়ে চাল উত্তোলন করেছি। তবে জানি না কীভাবে ডিউ বাতিলের এক মাস আগে আমাদের চাল দেওয়া হলো।
আহমেদাবাদ নাজির উদ্দিন ইসলামিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ মোস্তফা কামাল মিজি জানান, “আমরা ১২ বস্তা চাল পেয়েছি এবং মেম্বারের মাধ্যমে উপজেলা থেকে তুলে এনেছি।”
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার মিলি বলেন, “ডিওগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে ছিল। কেউ উত্তোলন করতে না আসায় আমি ডিউ বাতিল করেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে চাল পেয়েছে, তা আমি জানি না।”
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি মনির হোসেন স্থানীয় একজন মেম্বার এবং একটি চাল সিন্ডিকেটের সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিউ ছাড়াই সরকারি চাল বিতরণ করেছেন। কমিশনের বিনিময়ে চাল হস্তান্তর করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “ডিও ছাড়া চাল উত্তোলন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ওসি এলএসডি নিয়ম-নীতি মানেননি। নিজে ক্ষমতা দেখিয়ে, কমিশনের বিনিময়ে চাল হস্তান্তর করেছেন।”
এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি মনির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল হোসেন বলেন, “ডিউ ছাড়া চাল উত্তোলনের সুযোগ নেই। কীভাবে এসব চাল মাদ্রাসায় পৌঁছেছে, খোঁজ নেওয়া হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





