বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের ডা. আব্দুল মোবিন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম
চাঁদপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতের ডা. আব্দুল মোবিন

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর–দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ আবদুল মোবিনের প্রার্থিতা আপিল শুনানিতে বৈধতা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে আবারও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন তিনি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার মনোনয়ন বৈধতা পায়। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে হলফনামায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিনের সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ তার দাখিল করা আবেদন গ্রহণ করে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ডা. আব্দুল মোবিন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে তার আবেদন পর্যালোচনা শেষে কমিশন তা মঞ্জুর করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে।

Model Hospital

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ডা. আব্দুল মোবিন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, চাঁদপুর-২ জামায়াতের নমিনেশন আপিল শুনানিতে ডাক্তার মোহাম্মদ আবদুল মোবিন এর নমিনেশন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। মনোনয়নপত্র আপিলে বৈধ ঘোষণা করা হওয়ায় সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিচক্ষণ, ন্যায়সঙ্গত ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ জন্য আমি সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে আন্তরিক শুকরিয়া আদায় করছি।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি দক্ষ, সাহসী ও পেশাদার লিগ্যাল টিম অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করেছে। তাদের পরিশ্রমম, আন্তরিকতা ও পেশাগত সততার জন্য আমি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

মনোনয়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্তে দেশবাসী, বিশেষ করে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) এলাকার জনগণ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই কঠিন সময়ে আপনারা আমার জন্য দোয়া করেছেন, পাশে থেকেছেন এবং নৈতিক শক্তি জুগিয়েছেন। আপনাদের এই অভূতপূর্ব ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আমি মতলবের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। লড়াই হবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার।” নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী মাঠে থেকে জনগণের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেব।

বিশেষভাবে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের আস্থা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান আমাকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের প্রশ্নে আগামীতেও আমি দায়িত্বশীল ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করে যেতে সচেষ্ট থাকব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন। আমীন।”

তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনের প্রচারণায় সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে আপিলে ডা. মোহাম্মদ আবদুল মোবিনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তার প্রার্থীতা বৈধ এই ঘোষণার পর চাঁদপুর-২ আসনের জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা বলছেন, আপিলের রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে, ডা. মোবিনের প্রার্থিতা বৈধ হওয়ায় চাঁদপুর-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র্র হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

উল্লেখ্য চাঁদপুর-২ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। পরে কয়েকজন প্রার্থী আপিল করলে নির্বাচন কমিশন তাদের আবেদন শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত জানায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।