বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

অপরিকল্পিত বিদ্যুতের খুঁটি-তারের ঝুঁকিতে চাঁদপুর শহর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৩ এম
অপরিকল্পিত বিদ্যুতের খুঁটি-তারের ঝুঁকিতে চাঁদপুর শহর

চাঁদপুর শহরের সড়কগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ও এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে শহরবাসী। এসব খুঁটি ও তার মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কালীবাড়ি মোড়, হকার্স মার্কেট রোডসহ শহরের অলিগলিতে দেখা গেছে, একাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। কোথাও কোথাও খুঁটি মার্কেট ও ভবনের পাশে ঘেঁষে রয়েছে। যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এছাড়া বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগের তার যত্রতত্র ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তারগুলো সড়কের ওপর নিচু হয়ে ঝুলছে, আবার কোথাও খুঁটি থেকে খুলে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এতে করে ভারী যানবাহন চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি পথচারীরাও আতঙ্কে থাকছেন।

চাঁদপুর কোর্টস্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী জসিম মেহেদী জানান, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারের এমন অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। খুঁটিগুলো পুরোনো হওয়ায় এবং অনেক তারের কারণে হেলে পড়েছে। সড়কে চলাচলকারী পথচারীরা অনেক সময় নিচে পড়ে থাকা তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

Model Hospital

পথচারী সুজন বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক খুঁটি ও এলোমেলো তারের কারণে শুধু দুর্ঘটনার আশঙ্কাই বাড়ছে না, একইসঙ্গে চাঁদপুর শহরের সৌন্দর্যও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা দ্রুত এসব ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণ, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন খুঁটি স্থাপন এবং ঝুলন্ত ও ছড়িয়ে থাকা তারগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ভূইয়া বলেন, এ প্রসঙ্গে এখন কোনো কথা বলতে পারবো না। আমি অফিসের কাজে এখন ব্যস্ত আছি, আপনি পরে অফিসে এসে কথা বলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।