বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে পুলিশের জালে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারক চক্র, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
চাঁদপুরে পুলিশের জালে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারক চক্র, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত চেক বই ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে থানা প্রাঙ্গণে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফর রহমান মতলব উত্তরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার পূর্ব ফতেপুর এলাকার জাহিরুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির নামের এক ব্যক্তি ফার্নিচারের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।
অভিযানের প্রথম ধাপে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম (৫৭) ও আল আমিন ওরফে রিফাত (৩০) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন (৪৫) এবং তার সহযোগী রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদ (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনিরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। তারা মূলত গ্রামের সহজ সরল মানুষ, বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে নেয়। পরে সেই হিসাবের চেক বই, ডেবিট বা ভিসা কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিত।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক বই এবং ১৯টি ডেবিট ও ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধারকৃত একাধিক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, অনলাইন প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর এফআইআর নং-২৬, তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৬; ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ পিএম
চাঁদপুরে পুকুর ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় লাখ টাকা জরিমানা

চাঁদপুর জেলা সদরের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলায় মো. শাহাদাত হোসেন গাজী (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভরাট করা অংশ খনন করে অপসারণ করা বর্জ্য পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য তাকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম বিষ্ণুদী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করে পুকুরের অংশবিশেষ ভরাট করে গরুর খামারের বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে মো. শাহাদাত হোসেন গাজীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করেন।

এ ছাড়া ভরাট করা অংশ খনন করে সেখানে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং তা পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

Model Hospital

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হুদা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।