রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে পুলিশের জালে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারক চক্র, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৮ পিএম
চাঁদপুরে পুলিশের জালে ভয়ংকর অনলাইন প্রতারক চক্র, মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ব্যবহৃত চেক বই ও ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ২০২৬ তারিখে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে থানা প্রাঙ্গণে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফর রহমান মতলব উত্তরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার পূর্ব ফতেপুর এলাকার জাহিরুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির নামের এক ব্যক্তি ফার্নিচারের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।
অভিযানের প্রথম ধাপে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে নজরুল ইসলাম (৫৭) ও আল আমিন ওরফে রিফাত (৩০) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন (৪৫) এবং তার সহযোগী রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদ (২৪) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনিরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। তারা মূলত গ্রামের সহজ সরল মানুষ, বিশেষ করে নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তাদের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে নেয়। পরে সেই হিসাবের চেক বই, ডেবিট বা ভিসা কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিত।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি চেক বই এবং ১৯টি ডেবিট ও ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উদ্ধারকৃত একাধিক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, অনলাইন প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর এফআইআর নং-২৬, তারিখ ১২ জানুয়ারি ২০২৬; ধারা ৪০৬/৪২০/৩৪ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।