বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আপন’র উদ্যোগে অর্ধশতাধিক রিকশা চালকদের মাঝে শীত উপহার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
আপন’র উদ্যোগে অর্ধশতাধিক রিকশা চালকদের মাঝে শীত উপহার বিতরণ
সামাজিক ও মানবিক সংগঠন আপন -এর উদ্যোগে চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক রিকশা চালক ও শীতার্ত মানুষের মাঝে মাঝে শীত উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এবারে শীত উপহার হিসেবে রিক্সা চালকদের ভারী কাপড়ের উন্নত হুডি এবং শীতার্ত নারীদের কম্বল প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী। ‌সামাজিক সংগঠন আপন -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রোটা. ডা. রাশেদা আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমএ লতিফ, আপন -এর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল ফারুক, চাঁদপুর জেলা ফটোজানালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাড. ইয়াসিন আরাফাত ইকরাম।

আপন -এর সাধারণ সম্পাদক আশিক বিন রহিমের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ শাহ আলম ফরাজী, চাঁদপুর রেইমবো হাসপাতালের পরিচালক মহসিন ভূঁইয়া, আপন -এর সিনিয়র সহ-সভাপতি রোটারিয়ান মোঃ আশরাফুল আরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিত্তুল মুনা চৈতি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বলেন, শীতের সময় খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক দায়িত্ব। সমাজের সামর্থ্যবানদের এ ধরনের উদ্যোগে এগিয়ে আসা দরকার। আপন-এর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। এটি অন্য সংগঠনগুলোর জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমাদের সমাজে উল্লেখ সংখ্যক মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত এই মানুষগুলো লোক লজ্জায় কারো কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে পারেন না। আমরা যারা সামর্থ্যবান আছি, তাদের উচিত আশেপাশে এমন মানুষদের খোঁজখবর রাখা। বিশেষ করে দুর্যোগ-দুর্ভোগ কিংবা উৎসবের দিনগুলোতে তাদের দিকে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। আসুন আমরা সবাই মিলে খুদা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুন্দর এবং মানবিক রাষ্ট্র করে তুলি।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. রাশেদা আক্তার বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পরিশ্রমী মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আপন-এর মূল লক্ষ্য। শীত উপহার বিতরণের মাধ্যমে আমরা তাদের পাশে থাকার সামান্য প্রয়াস নিয়েছি। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা রিকশা চালক এবং অসহায় শীতার্তদের হাতে আপন -এর শীত উপহার তুলে দেন। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।