বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের অবসর: ভালোবাসা, সম্মান আর আবেগে ভরা এক বিদায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের অবসর: ভালোবাসা, সম্মান আর আবেগে ভরা এক বিদায়

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তিতে উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামানকে জানানো হলো ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় ভরা এক রাজকীয় বিদায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিয়েছিল আবেগঘন এক মিলনমেলায়—যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজনেরা একত্রিত হয়েছিলেন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে।

অবসরজনিত সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দিন আবু ইউসুফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলী আশ্রাফ খান।

Model Hospital

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জননন্দিত চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন, মেহের ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাধ্যমিক সমাজকল্যাণ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আঃ রহিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন (এমএসসি), ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশু, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউর রহমান, সমাজসেবক জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক আঃ রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আলী আশ্রাফ খান বলেন, “একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। মোঃ মনিরুজ্জামান তাঁর কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি বিদায়ী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় আগামীর জীবন কামনা করেন।

বিদায়ী শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় জড়িয়ে আছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের সময়কার তৎকালীন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আমৃত্যু সভাপতি মরহুম সিদ্দিকুর রহমান স্যারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাজকীয় আয়োজনে ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়—যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে গেঁথে যায় এক স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে।

পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর, ভালোবাসায় ভরা এবং গভীর আবেগঘন—যেখানে একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অনন্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital