শাহরাস্তিতে প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামানের অবসর: ভালোবাসা, সম্মান আর আবেগে ভরা এক বিদায়
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তিতে উনকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামানকে জানানো হলো ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় ভরা এক রাজকীয় বিদায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিয়েছিল আবেগঘন এক মিলনমেলায়—যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজনেরা একত্রিত হয়েছিলেন প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে।

অবসরজনিত সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দিন আবু ইউসুফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলী আশ্রাফ খান।



বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জননন্দিত চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম পাটোয়ারী লিটন, মেহের ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মাধ্যমিক সমাজকল্যাণ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আঃ রহিম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন (এমএসসি), ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান, চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশু, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউর রহমান, সমাজসেবক জাকির হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক আঃ রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ আলী আশ্রাফ খান বলেন, “একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। মোঃ মনিরুজ্জামান তাঁর কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শিক্ষক সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি বিদায়ী শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় আগামীর জীবন কামনা করেন।
বিদায়ী শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় জড়িয়ে আছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই ছিল আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের সময়কার তৎকালীন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আমৃত্যু সভাপতি মরহুম সিদ্দিকুর রহমান স্যারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার প্রদান করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাজকীয় আয়োজনে ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়—যা উপস্থিত সবার হৃদয়ে গেঁথে যায় এক স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে।
পুরো আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর, ভালোবাসায় ভরা এবং গভীর আবেগঘন—যেখানে একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অনন্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।





