রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ফরিদগঞ্জে চিংড়ি ও ধানের শীষের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০২ এম
ফরিদগঞ্জে চিংড়ি ও ধানের শীষের সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১৫

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম.এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক ছিল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। হোগলি গ্রামে উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরপর দুইবার মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এম.এ. হান্নান বক্তব্য বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে তিনি সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানেও প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি কর্মসূচি স্থগিত করে খাজুরিয়া বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষ রাত আনুমানিক ৯টা পর্যন্ত চলে এবং পরে রূপসা বাজার এলাকাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

Model Hospital

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে পূর্ব রূপসা উত্তর ইউনিয়নে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাজারের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও জিসান পাটওয়ারী রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আহতদের মধ্যে রয়েছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।”

এ নিউজ লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।