রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
শাহরাস্তিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
শাহরাস্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে শাহরাস্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আকলিমা জাহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, এডিসবাহিত রোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্র্যাকসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে যৌথ পরিকল্পনা, নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (সিডিসি)-এর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, পরিসংখ্যানবিদ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও নার্সরা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মকর্তা মোঃ বেলাল হোসেন।
সভা সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার আমজাদ হোসেন পলক। একই সঙ্গে তিনি  ব্র্যাকের পক্ষ থেকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন।
আলোচকরা তাদের বক্তব্যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি বিশ্লেষণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও টেকসই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ১২ টি মাইকিং, স্কুল-কলেজে আলোচনা সভা, ৩২টি উঠান বৈঠক, ৩টি ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান, ২টি সিএইচসিপি/সিএইচডব্লিউ প্রশিক্ষণ, ১টি সরকারি স্টাফ প্রশিক্ষণসহ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ৪টি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভা শেষে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (এমওডিসি) ও আরএমও ডা. অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী, মেডিকেল অফিসার ডা. জসিম উদ্দিন, ডা. সারোয়ারসহ জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।