রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় ভোটাররা : ভোটের মাঠে এগিয়ে ড. মিলন

মেহেদী হাসান সাকিব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম
কচুয়ায় পরিবর্তনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় ভোটাররা : ভোটের মাঠে এগিয়ে ড. মিলন

সারা দেশে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী সমীকরণে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের তুলনায় জনমতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে জয়ের পথে তিনি অনেকটা এগিয়ে আছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উন্নয়নের স্মৃতি ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে কচুয়ার স্থানীয় ভোটরদের মতে, ড. মিলনের আমলেই এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। চাঁদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার অবদান এখনো ভোটারদের মুখে মুখে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কচুয়াকে ‘‘মাদকমুক্ত ও আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষা নগরী” হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বিশেষ করে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে।

নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ড. মিলনের পক্ষে একটি নীরব গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি সহমর্মিতা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছে।

জয়ের পথে এগিয়ে থাকার প্রধান ৩টি কারণ: ১. ব্যক্তিগত ইমেজ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ পদ্ধতির প্রবর্তক হিসেবে তার দেশব্যাপী সুনাম। ২. উন্নয়নের রেকর্ড: কচুয়াবাসীর কাছে তিনি ‘উন্নয়নের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত। ৩. জনগণের প্রত্যাশা: ভোটাররা মনে করছেন, এলাকার স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন কর্মকান্ড পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁর বিকল্প নেই।

Model Hospital

যদিও ড. মিলন ভোটে এগিয়ে থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তবে তিনি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা কাল সকালেই কেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের পবিত্র আমানত (ভোট) প্রদান করুন। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।”

এ আসনে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী আনম এহছানুক হক মিলন ১৪, ১৮ ও  ২৪ সাল পর্যন্ত ছিলো আওয়ামী লীগের দখলে এ আসনটি। কচুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সেলিম পাটওয়ারী ও বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, কচুয়ার এ আসনটি এহছানুল হক মিলন ভাইয়ের ধানের শীষ মার্কার । ইনশাআল্লাহ এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোটার: ৩,৪৮,৭৪৬ জন, মোট ভোট কেন্দ্র: ১১০টি । ড. মিলনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর  মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী। এ আসনে আরো ৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। তারা হচ্ছেন, মোহাম্মদ আজাদ হোসেন (সূর্য মার্কা), নাছির উদ্দীন  (মোমবাতি), এনায়েত হোসেন (ট্রাক) ও হাবিব খান (নাঙ্গল)।

কচুয়ার রাজনৈতিক বাতাসে এখন ড. মিলনের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিপুল ব্যবধানে তার জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষকরা।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।