শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক কেন মন্ত্রিত্বের ন্যায্য দাবিদার

মোঃ জুয়েল রানা তালুকদার প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১০ পিএম
ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক কেন মন্ত্রিত্বের ন্যায্য দাবিদার

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি দুই উপজেলা এবং দুইটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ সংসদীয় আসন। এই জনপদের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এক সম্ভ্রান্ত ও সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি শুরু থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী থেকে মাঠে সংগ্রাম করেছেন।

পর্যায়ক্রমে তিনি চাঁদপুর জেলা বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জেলা বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নেতৃত্ব, সংগঠন পরিচালনা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সংকট দেখা দিলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাজীগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে উনার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন। সেই আস্থা ছিল উনার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সততা ও দলের প্রতি নিবেদনের স্বীকৃতি। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে। সংকটের সময়ে তিনি বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে সংগঠনকে আগলে রেখেছেন।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিহিংসা নয়, বরং শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা দিয়ে তিনি কর্মীদের সংযত থাকতে আহ্বান জানান। এতে এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

Model Hospital

ভোটের রাজনীতিতেও উনার শক্ত অবস্থান স্পষ্ট। ২০০৮ সালে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি সারাদেশের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তদের একজন হয়েও পরাজিত হন, ২০১৪ সনে দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।২০১৮ সনে আওয়ামী লীগের অধীনে দিনের ভোট রাতেই সম্পূর্ণ হয়ে যায় সেখানেও সকাল বেলা ৩০ মিনিটের ভোটে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক ৩৫হাজার ভোট পেয়েছে।তারপর দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন বয়কট করা হয়। কিন্তু সেই পরাজয় উনাকে থামাতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এবং ১৫৮টি ভোট কেন্দ্রে সবগুলো কেন্দ্রে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটি উনার দীর্ঘদিনের জনসংযোগ, সততা এবং মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

আজ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সাধারণ মানুষের মুখে একটি প্রত্যাশা শোনা যায়—চাঁদপুর জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন একজন নিরহংকারী, পরোপকারী, ভদ্র ও ক্লিন ইমেজের শিক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী,সাহসী জাতীয়তাবাদী দলের পরিক্ষিত সৈনিক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সেই দাবির স্বাভাবিক এবং ন্যায্য দাবীদার

এই দাবি কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয় এটি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের স্বপ্ন, উন্নয়ন প্রত্যাশা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন। একজন অভিজ্ঞ সংগঠক, পরীক্ষিত নেতা এবং জনগণের আস্থাভাজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেলে জেলা ও বিভাগের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন এমনটাই বিশ্বাস করেন এলাকার সচেতন মানুষ।

বিঃদ্রঃ তথ্যগত ভুল হলে ক্ষমা মার্জিত এবং সকল কথা তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।