শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে চাঁদপুর সদরের দশ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০২ পিএম
শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে চাঁদপুর সদরের দশ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন
মাসুদ হোসেন : শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা প্রতীক আর নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিটি এলাকার অলিতে-গলিতে ঝুলছে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোষ্টার-ব্যানার। তবে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের উত্তাপ ততই বাড়ছে।
প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থীদের এখন ঘুম হারাম। এবারের নির্বাচনে রাতের বেলায় প্রার্থীরা প্রচারণায় বেশী সময় পার করছেন। নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সদর উপজেলার ১০টির মধ্যে ৮টি ইউনিয়নেই নৌকা আর স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
এদিকে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণার প্রতিযোগীতা। আগামি বৃহস্পতিবার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। ওইদিন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সাধারণ ভোটারদের।
সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর, ২নং আশিকাটি, ৪নং শাহমাহমুদপুর, ৫নং রামপুর, ৬নং মৈশাদী, ৭নং তরপুরচন্ডী, ৮নং বাগাদী, ৯নং বালিয়া, ১২নং চান্দ্রা ও ১৩নং হানারচর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টি তে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর বাকী ৮টিতে চলবে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগীতার লড়াই। সেই সাথে ১০টি ইউনিয়নেই হবে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারন সদস্যদের মধ্যে বিমুল ভোট যুদ্ধ।
এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩২ জনসহ ৪০৮ জন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও সাধারন মেম্বার পদে প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’