বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের আয়োজনে সেমিনার অনুষ্ঠিত

লিগ্যাড এইড থেকে অসহায়রা যেন সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে : সি. জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৬ এম
লিগ্যাড এইড থেকে অসহায়রা যেন সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে : সি. জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ ও স্টেকহোল্ডারগনের সমন্বয়ে সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার।

চাঁদপুর জেলা লিগ্যাল এইডের আয়োজনে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর সাস্প্রতিক সংশোধনী ও করণীয় বিষয়ে প্যানেল আইনজীবীবৃন্দ ও স্টেকহোল্ডারগণের সমন্বয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে৷
২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার।
তিনি বক্তব্যে বলেন, যারা নতুন লিগ্যাল এইড আইনজীবি নিয়োজিত হয়েছেন তাদের অভিনন্দন। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সুন্দরভাবে পালন করবেন৷ আপনারা যখন লিগ্যাল এইডে নিয়োজিত হবেন, তখন মামলায় নিয়মিত অংশ নিবেন। আমরা প্রতি মাসেই জেল খানা ভিজিট করি। লিগ্যাল এইডের হট নম্বর রয়েছে, সেখানে যোগাযোগ করলে সকল আইনি সুবিধা পাওয়া যাবে৷
আমরা যারা দায়িত্ব নিয়েছি, তারা অসহায়দের জন্য কাজ করবো। লিগ্যাড এইড থেকে যেন তারা সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ জজ সাহেবকে ভয় করার কিছু নাই, জজ সাহেবও মানুষ৷ আপনারা লিগ্যাল এইডের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।
তিনি আরও বলেন, অসহায় বিচার প্রার্থীদের জন্য প্যানেল আইনজীবি রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির জন্য লিগ্যাল এইড যাচ্ছে৷ লিগ্যাল এইডের কথাগুলো মানুষের কাছে পৌছাতে হবে৷ এখানে সীমাবদ্ধতা আছে৷ কোন একজন যার লিগ্যাল এইড দরকার, সে যেন সুযোগ পায়। কেউ লিগ্যাড এইড চেয়েছে কিন্তু পায়না এমন রেকর্ড নাই। আমরা যারা আইনজীবি এবং বিচারক সবাই মিলে মামলা গুলো যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, তার জন্য কাজ করতে হবে। লিগ্যাল এইডের মামলাগুলো গুরুত্ব দিতে হবে। সবার সহযোগিতা চাই লিগ্যাল এইডের কাজে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (ভারপ্রাপ্ত)  সিনিয়র সিভিল জজ মো: আবদুল আলীমের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ আব্দুল হান্নান, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১) বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদ ,অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২) বিচারক কামাল হোসেন, চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজলা রানী চাকমা, জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল মান্নান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খায়রুল কবীর, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, জেল সুপার জয়নাল আবেদীন ভূইয়া, জিপি অ্যাড. এ.জেড.এম রফিকুল হাসান রিপন, পিপি অ্যাড. কোহিনুর রশিদ, জেলা,আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. বাবর বেপারী, সাধারন সম্পাদক অ্যাড. জসিম উদ্দীন মেহেদী হাসান,  সিভিল সাজনের প্রতিনিধি ডাঃ মোঃ রফিকুল হাসান ফয়সল, প্যানেল আইনজীবী অ্যাড. শিরিন সুলতানা সুপ্তা, অ্যাড. নুরুল হক কমল, অ্যাড. আলম খান মঞ্জু,  অ্যাড. হান্নান কাজী, অ্যাড. এইচ এম হেলাল, অ্যাড. বিশ্বজিৎ কর রানা প্রমুখ।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, লিগ্যাল এইড চাঁদপুরে ভালো কাজ করছে। লিগ্যাল এইডের কাজে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সহায়তা করবে৷ আপনাদের তথ্যগুলো চাঁদপুর প্রিন্ট মিডিয়াসহ সকল পত্রিকার সাংবাদিকগণ গুরুত্ব সহকারে ছাপে। জেল খানায় কোথাও কোন অসহায় কয়েদী  আছে কিনা তার তথ্য জেল সুপার দিবেন৷
এ সময় বিচারক, বিভিন্ন সংস্থার কমকর্তাবৃন্দগণ সহ প্যানেল আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।