বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আত্মহত্যা না পরিকল্পিত খুন!

ফরিদগঞ্জে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা-এ নুরজাহান বেগম (৫৫) নামে এক মধ্যবয়সী নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড-এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রুস্তমপুর ভাটেরহাট মসজিদ বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরজাহান বেগম কুয়েত প্রবাসী আবুল কালামের স্ত্রী। তিনি ২ ছেলে ২ কন্যা সন্তানের জননী।
নিহতের ছোট মেয়ে নুর সুলতানা তানহা জানান, সকালবেলা কলেজে যাওয়ার সময় মাকে ঘরে শুয়ে থাকতে দেখেন। যাওয়ার আগে মায়ের কাছে টাকা চাইলে ২০০ টাকা দেন।
তানহা বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের চাচাতো বোনের ঘরে ওষুধ দিতে যাই। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে টয়লেটের ভেতর থেকে শব্দ পাই। সেখানে গিয়ে দেখি মায়ের গলা কাটা, রক্ত ঝরছে। তখন আমি চিৎকার করে সবাইকে ডাক দিই।”
পরে বড় ভাই নুর হোসেন রনিকে খবর দেই। দ্রুত পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ছেলে নুর হোসেন রনি জানান, “সকাল প্রায় ১০টার দিকে আমি রুস্তমপুর বাজারে যাই। দুপুরে ছোট বোন ফোন করে জানায়, মা’কে কে বা কারা জবাই করেছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মা আগেই মারা গেছেন।”
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আখন জানান, গলা কাটা অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ছেলে-মেয়ে ও স্বজনরা দাবি করেছেন, নুরজাহান বেগমের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তাদের ধারণা, তিনি নিজেই গলায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যা করতে পারেন।
তবে স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। তাদের প্রশ্ন—নিজের গলায় এমনভাবে আঘাত করা কি আদৌ সম্ভব? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা কারণ?
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
ফরিদগঞ্জ থানা-এর তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা-তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।