বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বৃদ্ধাকে হত্যা, হাত-পা বাঁধা পুত্রবধূ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম
চাঁদপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বৃদ্ধাকে হত্যা, হাত-পা বাঁধা পুত্রবধূ উদ্ধার

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বাগানবাড়ি ইউনিয়নে নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই বাড়ি থেকে পুত্রবধূকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত পারুল বেগম (৭০) মৃত লনু প্রধানের স্ত্রী। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হালিমা আক্তার স্থানীয় নুরুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিতে তিনি ওই বাড়িতে যান। বাইরে শিশু মাহাদি হাসান ও মারিয়াকে খেলতে দেখে তাদের কাছে পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজ করেন। তখন শিশুরা জানায়, দাদু আর মা মারা গেছে। বিষয়টি শুনে তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন পারুল বেগম উপুড় হয়ে পড়ে আছেন ও অন্য কক্ষে হালিমা আক্তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

Model Hospital

নিহত বৃদ্ধার পুত্রবধূ হালিমা আক্তার জানান, এশার নামাজের কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মুখ বাঁধা অবস্থায় ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমেই তাকে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে ও ঘরের মালামাল লুটে নেয়। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে তার শাশুড়ি পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে চাঁদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।