বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ ঘণ্টা পর জানা গেলো পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা হত্যা, পুত্রবধূ ও প্রেমিক গ্রেপ্তার

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৮:২০ পিএম
১২ ঘণ্টা পর জানা গেলো পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা হত্যা, পুত্রবধূ ও প্রেমিক গ্রেপ্তার
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে ঘটে যাওয়া বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১২ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পাশের বাড়ির প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠু (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় হত্যা এবং দস্যুতা মামলা দায়ের করেছেন।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব ও পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত প্রদীপ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। প্রথমে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে পরকীয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত পরিকল্পিত হত্যার তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হালিমা আক্তার ও মিঠু হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৮ মাস আগে ইটালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হন। এরপর মিঠু হালিমাকে ব্যবহার করে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করতে চেষ্টা করেন। হালিমা রাজী না হলে মিঠু তার স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে ভয় দেখায় এবং হালিমাকে পরিকল্পনায় সহায়তা করতে রাজী করানো হয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে মিঠুন গোপনে প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর মিঠু পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্য হালিমাকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার খবর পান। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেছেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। পরকীয়ার জেরে হালিমা আক্তার তার মাকে হত্যা করেছে এবং পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ এম
চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ
চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলীতে নার্সারির ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনা নজরে আসে।
ভুক্তভোগী নার্সারির মালিক আল আমিন সুমন জানান, আমার এখানে লাখ লাখ টাকামূল্যের ফলজসহ নানা গাছের চারা রয়েছে। দুষ্কৃতিরা সব বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমি এখন চরম হতাশায় রয়েছি। নার্সারিটি মূলত আমার পিতা নাছির মোল্লা পরিচালনা করতেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের এই নার্সারিটি লীজের জমিতে করা। লীজ নিয়ে ঝামেলা চলছিলো জমির মালিক পক্ষের সাথে। তারাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাথে না পেরে গাছের সাথে এমন অমানবিক শত্রুতা দেখালো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশা করছি।
স্থানীয়রা জানান, জমির লীজ সংক্রান্ত সমস্যা ছিলো নার্সারি ও জমির মালিকের মধ্যে। এটার কারনে এমন ঘটনা হতে পারে। তবে গাছের সাথে শত্রুতা কোন ভালো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দেখতে চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নার্সারির জমির মালিক পক্ষের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই মোস্তফা বলেন, আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।