বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে খোলা তেল বোতলজাত করে বিক্রি করা যাবে না : ডিসি নাজমুল ইসলাম

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম
চাঁদপুরে খোলা তেল বোতলজাত করে বিক্রি করা যাবে না : ডিসি নাজমুল ইসলাম

চাঁদপুর জেলা তৈল মনিটরিং কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার।

চাঁদপুর জেলা তৈল মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, খোলা তেল বোতলজাত করে বিক্রি করা যাবে না। পাম্প ছাড়া খোলা তেল বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে খোলা তেল বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অসাধু ও দুষ্কৃতিকারীরা অনেক সময় খোলা তেল ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে থাকে। তাই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। তেলের ওপর সরকার ভর্তুকি প্রদান করে থাকে, ফলে এর সঠিক ব্যবহার ও সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যারা তেল সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে এবং যেকোনো অনিয়ম দেখলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে হবে।

Model Hospital

জেলা প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া পেট্রোল-অকটেন বিক্রি করা যাবে না এবং পাম্পগুলোতে তেলের মজুদ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। অধিক মুনাফার জন্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ সারাদেশে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। চাঁদপুরে এই ধরনের মব সৃষ্টিকারী আইনের দিক থেকে কোন ছাড় পাবে না। তেল বিপণন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ ক্রাইম এন্ড অপস লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা, ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, পরিচালক গোপাল চন্দ্র সাহা, জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বিল্পব সরকার, জেলা মহৎ কর্মকর্তা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, তেল এজেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।