বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মসজিদে গেল নামাজ পড়তে, ফিরলো লাশ হয়ে; মাদ্রাসাছাত্র রুবেলের শত্রুতা কার সাথে?

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
মসজিদে গেল নামাজ পড়তে, ফিরলো লাশ হয়ে; মাদ্রাসাছাত্র রুবেলের শত্রুতা কার সাথে?
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে ঘর থেকে বের হয় নুরানী মাদ্রাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ের পাশে মিললো তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্ত বের হচ্ছিল। কি এমন অপরাধ ছিল শিশু রুবেল হোসেনর। তাকে হত্যা করতে হলো। প্রশ্ন এলাকাবাসীর। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি করেছেন তারা।
বুধবার (১০ মার্চ) রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের বাশঁঝাড়ের নিচে মরদেহটি পড়ে ছিল।
মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনাটি কখন ঘটেছে তা যানা যায়নি । তবে তারাবির নামাজের সময় নিখোঁজ হয়।
নিহত শিশু মো. রুবেল হোসেন মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের ছাত্র।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ইফতারের পর প্রায় সাড়ে সাতটায় রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবির নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও  সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং ব্যবস্থা করেন।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে  রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা নিশ্চিত হন, শিশু রুবেল মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও এসআই বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করলো। সে কী অপরাধ করেছিল”। নিহত শিশু রুবেল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, “ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। শিশুটি হত্যা হয়ে থাকলে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ এম
চাঁদপুরে নার্সারির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ
চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ডের বাহের খলিশাডুলীতে নার্সারির ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৪ সেপ্টেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে এ ঘটনা নজরে আসে।
ভুক্তভোগী নার্সারির মালিক আল আমিন সুমন জানান, আমার এখানে লাখ লাখ টাকামূল্যের ফলজসহ নানা গাছের চারা রয়েছে। দুষ্কৃতিরা সব বিষ দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমি এখন চরম হতাশায় রয়েছি। নার্সারিটি মূলত আমার পিতা নাছির মোল্লা পরিচালনা করতেন।
তিনি আরও জানান, আমাদের এই নার্সারিটি লীজের জমিতে করা। লীজ নিয়ে ঝামেলা চলছিলো জমির মালিক পক্ষের সাথে। তারাই পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাথে না পেরে গাছের সাথে এমন অমানবিক শত্রুতা দেখালো। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশা করছি।
স্থানীয়রা জানান, জমির লীজ সংক্রান্ত সমস্যা ছিলো নার্সারি ও জমির মালিকের মধ্যে। এটার কারনে এমন ঘটনা হতে পারে। তবে গাছের সাথে শত্রুতা কোন ভালো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দেখতে চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নার্সারির জমির মালিক পক্ষের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই মোস্তফা বলেন, আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।