বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
কচুয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম

জাতীয় নির্বাচনের পরপরই জেলা পরিষদ, উপজেলা চেয়াারম্যান, ইউপি চেয়াারম্যান ও কচুয়া পৌরসভার মেয়র কে হচ্ছেন সেই আলোচনায়ই এখন কচুয়ার সর্বত্র। সবার নজর এখন মেয়র পদকে ঘিরে।

কে হচ্ছেন কচুয়ার পৌর মেয়র? মেয়র পদে ডজন খানিক প্রার্থী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। পৌর সভার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র আলোচনায় উঠে আসছেন সম্ভাব্য প্রার্থী কচুয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলামের নাম। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাঁড়িয়ে দেওয়ার কারনে এবং বিগত সরকারের আমলে দলীয় নেতা কর্মীদের মামলা হামলার দরুন নেতাকর্মীরা যখন ঘর ছাড়া তখন ঐ সময় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মামলার খরচ চালিয়ে যাওয়ায় মেয়র পদে গ্রহন যোগ্যতা নেতাকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি তাঁর কারণে মেয়র পদে আলোচনায় ফখরুল ইসলামের নাম সর্বমহলে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়র পদে প্রার্থীতা জানান দিয়ে তার পক্ষে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ব্যানার ও প্রচারমূলক কনটেন্টে তাকে আগামী পৌর নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

পৌরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকান্ডে সক্রিয় উপস্থিতি, বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে, দলীয় সকল কর্মকান্ডে নিজের সরব উপস্থিতি ও হিন্দু সম্পদায়ের মন্দিরে নিরাপত্তা ও তাদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়ে এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ফখরুল ইসলাম নিজেকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Model Hospital

সাম্প্রতিক সময়ে পৌর শহরে বিভিন্ন এলাকায় তার অংশগ্রহণে সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি, নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় এবং তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে।

তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পৌর বাজারে যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ভবন ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, ফখরুল ইসলাম সেই পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়া স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন, জোটগত সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাই নির্ধারণ করবে কারা চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকবেন।

সব মিলিয়ে, কচুয়া পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আবহ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপট ফখরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ফখরুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা বললে তিনি মেয়র পদে পাত্রী হওয়ার আগ্রহ প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী ফখরুল ইসলাম বলেন, কচুয়ার উন্নয়নের রূপকার নবনির্বাচিত এমপি ও শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ভাইয়ের একজন কর্মী হিসাবে আমি কচুয়া পৌরসভা কে একটি আধুনিক নিরাপদ মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভার প্রতিটি রাস্তাঘাট কালভার্ট নির্মাণ, যানজট মুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব যাতে মানুষ চলাচলের সহজ নিরাপদ হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের জন্য সাধারণ মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডে স্থায়ী ও আধুনিক কাউন্সিল অফিস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজি সহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

কচুয়া পৌরসভা কে দল-মত নিবিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ বসবাস সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।