রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদ জামাতে মুসল্লিদের ঢল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
চাঁদপুরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদ জামাতে মুসল্লিদের ঢল

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন চাঁদপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। নামাজ শেষে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সুধীজনদের সঙ্গে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শনিবার (২১ মার্চ) সকালে চাঁদপুর জেলা শহরের পুরান বাজার ঐতিহাসিক জামে মসজিদ, স্ট্যান্ড রোডস্থ চৌধুরী জামে মসজিদ, ঐতিহাসিক বেগম জামে মসজিদ, বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ এবং চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা শহরের বৃহত্তম মসজিদ পুরান বাজার জামে মসজিদে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন খতিব ও ইমাম মুফতি ইব্রাহিম খলিল মাদানী। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Model Hospital

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ঈদের আগের দিন ও ঈদের দিন বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে ময়দান ভিজে যাওয়ায় চাঁদপুর পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় পৌর ঈদগাহ এবং পুরান বাজার মধুসূদন হাই স্কুল মাঠে নির্ধারিত প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিটি মসজিদে যথাযথভাবে ঈদের জামাত আদায় করা হয়।

মেঘলা আকাশ ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ঈদের জামাত শুরুর অনেক আগেই জেলার বিভিন্ন মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, যা ধর্মীয় উৎসবের প্রতি মানুষের গভীর আগ্রহ ও আন্তরিকতার প্রতিফলন।

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ এম
হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ‘ভাটরার জাউরা’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো.শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর আলম ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারেককে মারধর করা হলে তার চিৎকার শুনে শুকুর আলম এগিয়ে আসেন। এ সময় তাকেও মারধর করা হয় এবং গাছের গুঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটরা গ্রামের মেহেদী, জিসান মোল্লা, শাহিন ও শাওন এবং সৈয়দপুর গ্রামের ইউসুফ, সাব্বির, আহসান ও সিয়ামসহ কয়েকজন এ হামলায় জড়িত।

Model Hospital

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারেক স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি-‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি ও হামলার অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও তাদের হামলায় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, এর আগে গ্রুপটির কয়েকজন সদস্য ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।