“আমাগো দিকে একটু তাকাইলে আমরা বাঁচতে পারতাম…”
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক নিভৃত গ্রামে প্রতিদিন যেন নতুন করে লড়াই করছেন রোকেয়া বেগম। ঝড়ের হাওয়া বইলেই কেঁপে ওঠে তার নড়বড়ে টিনের ঘর, আর বুকের ভেতর জমে ওঠে অজানা আতঙ্ক—প্রতিবন্ধী সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কাটাতে হয় দুঃসহ প্রতিটি মুহূর্ত।
হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের পশ্চিম ছৈয়াল বাড়ির বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। স্বামী এমদাদ থাকলেও সংসারের দায়ভার যেন পুরোপুরি তার কাঁধেই। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার। এর মধ্যে এক সন্তান বাক প্রতিবন্ধী—যার দেখভালই হয়ে উঠেছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম।

অভাব যেন এই পরিবারটির নিত্যসঙ্গী। আয়-রোজগারের নির্ভরযোগ্য কোনো মানুষ নেই। কখনো আধপেটা, কখনো না খেয়েই দিন কাটে তাদের। গ্রামের মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে দাঁড় করানো দুইচালা টিনের ঘরটি এখন ভাঙনের মুখে। সামান্য ঝড়েই ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা, আর সেই ভয়েই দিন কাটে রোকেয়ার।

ঝড়ের মেঘ জমলেই আতঙ্কে ছটফট করেন তিনি। নিজের জীবনের ভয় নয়, তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে—“ঘরটা যদি ভেঙে পড়ে, বাচ্চাটারে নিয়ে কোথায় যামু?”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন তিনি।

এলাকাবাসীও জানায়, পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনযাপন করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সরকারি কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সহায়তাই পারে এই পরিবারটিকে নতুন করে বাঁচার আশা দিতে।

মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, “আমাগো দিকে একটু তাকাইলে আমরা বাঁচতে পারতাম…”
এখন প্রশ্ন একটাই—এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে কে? যোগাযোগ: 01863259962





