বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

“আমাগো দিকে একটু তাকাইলে আমরা বাঁচতে পারতাম…”

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
“আমাগো দিকে একটু তাকাইলে আমরা বাঁচতে পারতাম…”

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার এক নিভৃত গ্রামে প্রতিদিন যেন নতুন করে লড়াই করছেন রোকেয়া বেগম। ঝড়ের হাওয়া বইলেই কেঁপে ওঠে তার নড়বড়ে টিনের ঘর, আর বুকের ভেতর জমে ওঠে অজানা আতঙ্ক—প্রতিবন্ধী সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কাটাতে হয় দুঃসহ প্রতিটি মুহূর্ত।

হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের পশ্চিম ছৈয়াল বাড়ির বাসিন্দা রোকেয়া বেগম। স্বামী এমদাদ থাকলেও সংসারের দায়ভার যেন পুরোপুরি তার কাঁধেই। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার। এর মধ্যে এক সন্তান বাক প্রতিবন্ধী—যার দেখভালই হয়ে উঠেছে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম।

অভাব যেন এই পরিবারটির নিত্যসঙ্গী। আয়-রোজগারের নির্ভরযোগ্য কোনো মানুষ নেই। কখনো আধপেটা, কখনো না খেয়েই দিন কাটে তাদের। গ্রামের মানুষের সহায়তায় কোনোভাবে দাঁড় করানো দুইচালা টিনের ঘরটি এখন ভাঙনের মুখে। সামান্য ঝড়েই ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা, আর সেই ভয়েই দিন কাটে রোকেয়ার।

ঝড়ের মেঘ জমলেই আতঙ্কে ছটফট করেন তিনি। নিজের জীবনের ভয় নয়, তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে—“ঘরটা যদি ভেঙে পড়ে, বাচ্চাটারে নিয়ে কোথায় যামু?”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন প্রশ্নই ছুঁড়ে দেন তিনি।

এলাকাবাসীও জানায়, পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনযাপন করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সরকারি কিংবা সমাজের বিত্তবানদের সামান্য সহায়তাই পারে এই পরিবারটিকে নতুন করে বাঁচার আশা দিতে।

Model Hospital

মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, “আমাগো দিকে একটু তাকাইলে আমরা বাঁচতে পারতাম…”

এখন প্রশ্ন একটাই—এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াবে কে? যোগাযোগ: 01863259962

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।