বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

দলিল থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ: আইনি জটিলতায় সর্বস্বান্ত ফরিদগঞ্জের রেমিট্যান্স যোদ্ধা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
দলিল থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ: আইনি জটিলতায় সর্বস্বান্ত ফরিদগঞ্জের রেমিট্যান্স যোদ্ধা
জীবনের সব সঞ্চয় খরচ করে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়তে গিয়ে প্রতারণার শিকার হলেন এক প্রবাসী। আদালতের রায়ে উচ্ছেদ অভিযানে ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তার পরিবার। খোলা আকাশের নিচে তিন অবুঝ সন্তান, বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব কাওনিয়া গ্রামে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গ্রামের মো. শহীদুল্লাহ’র ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. ওয়াসিম ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর ১০০৭৬/২৩ নং দলিলের মাধ্যমে স্থানীয় মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্নাদের কাছ থেকে ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা-খারিজসহ সব কাগজপত্র সম্পন্ন করে সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
তবে ক্রয়ের সময় বিক্রেতারা জমিটি আদালতে চলমান মামলার নালিশি সম্পত্তি-এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরল বিশ্বাসে জমি কিনে প্রতারণার শিকার হন প্রবাসী ওয়াসিম।
প্রকৃতপক্ষে, জমিটি একই গ্রামের মো. বাবলুদের পৈত্রিক সম্পত্তি বলে দাবি করা হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছিল। পরবর্তীতে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাদীর পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ের আলোকে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ.আর.এম. জাহিদ হাসান এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের কর্মকর্তারা। অভিযানে প্রবাসীর পরিবারের বসতঘরসহ পুরো ১৭ শতক জমি উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী রেহানা আক্তার জানান, “আমার স্বামী চার বছর আগে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছিলেন। কিন্তু বিক্রেতাদের প্রতারণার কারণে আজ আমরা সব হারিয়েছি। উচ্ছেদের আগে আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। এখন আমাদের খোলা আকাশের নিচে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
এ সময় প্রবাসীর বৃদ্ধা মা ফাতেমা বেগমকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
স্থানীয়রা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. বাবলু বলেন, “পরিবারটির জন্য আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী আমরা আমাদের সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছি। আইনগত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।”
এদিকে জমি বিক্রেতা মো. গিয়াস উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন ও আলাউদ্দিন আল মুন্নার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনেও সংযোগ মেলেনি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জমি ক্রয়ের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করলে এমন প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital