বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্কে বদলে যাচ্ছে চাঁদপুরে সড়কের চিত্র

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্কে বদলে যাচ্ছে চাঁদপুরে সড়কের চিত্র

সরকারের সড়ক নির্মাণ কাজের পথিকৃত এবং সরকারি রাস্তা নির্মাণের ভরসাস্থল হচ্ছে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর (সওজ)। তাই সরকারের অধিকাংশ সড়ক উন্নয়ন কাজই এ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। টেকসই, আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করছে সওজ। উন্নয়ন ও গণমুখী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। উন্নয়নের মহাসড়কে এখন বাংলাদেশ, আর তা নিশ্চিত করে চলছে সড়ক জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

সম্প্রতি সময়ে এর বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট এবং নান্দনিক সেতু নির্মাণ করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৈরি করছে নানান স্থাপনা, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, একদিনে ১০০ সেতু উদ্বোধন, গোটা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে নতুন সড়কসমূহ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছে সড়ক বিভাগ। যার কারণে দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের আওতায় নানামুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সড়ক সংস্কার, চলমান প্রকল্প গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলমান সড়ক উন্নয়নের ফলে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে জেলার দৃশ্যপট।

জেলার ৮টি উপজেলায় সড়ক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। প্রশস্ত সড়কে অনায়াসে চলাচল করছে চাঁদপুরবাসী। দ্রুততার সঙ্গে অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিগন্যাল বাতিও।

Model Hospital

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বরদিয়া সেতু, ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাজীগঞ্জ–রামগঞ্জ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গৌরীপুর–কচুয়া–হাজীগঞ্জ সড়ক, বাবুরহাট–মতলব–চেন্নাই সড়কের শহরাঞ্চল মেরামত, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গারপাড়া–এনায়েতনগর সড়কের কাজ চলমান এবং ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা–লালমাই–চাঁদপুর–লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ সড়ক এবং ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মতলব মেঘনা ধনাগদা বেড়িবাঁধ সড়কের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় সড়ক বিভাগ (সওজ) চাঁদপুরের নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাঃ ইউনুস আলী-এর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা মহাসড়ক মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই, নিরাপদ ও মানসম্মত মহাসড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সর্বপ্রথম যে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, তা হলো সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন।

তিনি বলেন, আমরা সড়ক, মহাসড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা অর্জন করেছি। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশের অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টেকনোলজি ট্রান্সফারের কারণে আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে।

আমাদের দেশের ঠিকাদাররাও পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ইকুইপমেন্টসমৃদ্ধ হয়েছে। টেকনোলজি ট্রান্সফারের কারণে বাংলাদেশ আজ বিশ্বমানের যে কোনো সড়ক, মহাসড়ক ও বড় বড় অবকাঠামো, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ করতে সক্ষম। বাংলাদেশের অগ্রগতি মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। চাঁদপুর সড়ক বিভাগের সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি সড়কে ট্রাফিক সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও স্পিড ব্রেকার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও তার অধীনস্থ সমস্ত বিভাগ ও সার্কেল এখন প্রতিটি কাজের সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেমন সক্ষমতা অর্জন করেছে, তেমনি যোগাযোগ ও অবকাঠামো নির্মাণে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এ অর্জনে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সওজ অধিদপ্তরের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিরলসভাবে দেশগঠনে ভূমিকা রেখে চলেছেন।

প্রসঙ্গত: ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাঃ ইউনুস আলী যোগদানের পর থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে চাঁদপুরকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রেখে সড়ক বিভাগের কাজের গুণগত মান সঠিক রাখার স্বার্থে কাজ করছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।