বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মূলক সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মূলক সভা

চাঁদপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি মূলক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩বঙ্গাব্দ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৮এপ্রিল (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে সংস্কৃতি কর্মীদের দায়িত্ব বেশি। আমি এরই মধ্যে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পিছনে ডাকাতিয়া নদীর পার ঘুরে দেখেছি। জায়গাটা সুন্দর আছে, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হব। এক সাথে সকলের সমন্বয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩বঙ্গাব্দ উদযাপন করা হবে। সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে সফল করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সকাল ৮টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে  বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, সকাল ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা চাঁদপুর হাসান আলী স্কুল মাঠ থেকে শুরু হয়ে ডাকাতিয়া নদীর পাড় শেষ হবে। পরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান হবে৷ পৌরসভার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে র্যালিতে কমপক্ষে১৫/ ২০জন অংশগ্রহন গ্রহন করবে। অনুষ্ঠানে পৌরসভার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহন করতে হবে।
পৌরসভার বাহিরে উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ভাবে অনুষ্ঠান করবে।  জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুই দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা হবে। সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এই আয়োজনে আপনাদের সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করি। আমরা সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করতে পারবো বলে আশা করছি। সবাইকে অগ্রিম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রাণের উৎসব। এ উৎসবকে সার্বজনীন ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদযাপনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: এরশাদ উদ্দিন এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মজিবুর রহমান, বিশিষ্ট নাট্যকার লিটন ভূইয়া, অন্যন্যা নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি শহিদ পাটওয়ারী, বনর্চোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক শরীফ চৌধুরী, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, সময় টিভির চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ সভাপতি ফারুক আহম্মদ, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মোবারক হোসেন শিকদার, লিটন ভূঁইয়া, অজিত দত্ত, শিপ্রা মজুমদার, তপন সরকার সহ বিভিন্ন সা্ংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ সহ অন্যান্যরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম.এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ।
শুরুতেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের লক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: এরশাদ উদ্দিন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।