বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জ কালির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান পুড়ে ছাই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
ফরিদগঞ্জ কালির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জের কালির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান ভস্মীভূত।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালির বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গভীর রাতে সন্তোষপুর সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাজারে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তাদের তাৎক্ষণিক ও দক্ষ হস্তক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অন্যথায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে শতাধিক দোকান ভস্মীভূত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবু মিকার এর ওয়ার্কশপ, সফিকুর রহমানের থাই গ্লাসের দোকান, কিরণ চন্দ্র দাসের কসমেটিকসের দোকান, মিজানুর রহমান গাজীর ভ্যারাইটি স্টোর, আনোয়ার হোসেনের ভ্যারাইটি স্টোর এবং মাইনুদ্দিনের লেপ-তোশকের দোকান।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তারা। হঠাৎ ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন, তাদের স্বপ্নের দোকানগুলো আগুনে পুড়ছে। অনেকেই বলেন, “দেনা-পাওনা আর কষ্টের পুঁজি দিয়ে গড়ে তোলা ব্যবসা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।” আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরও জানান, এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬টি দোকান পুড়ে গেছে এবং আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি, যা প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।