বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় শত বছর  বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
কচুয়ায় শত বছর  বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়

উপজেলার মনমা মুড়ায় শীতলা পূজা অর্চনা ও শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় ভক্তদের ভিড়।

​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া বিশ্বরোড বটতলায়  শীতলা পূজা অর্চনা ও মনসা মুড়ায়  শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গ্রামবাংলার এই প্রাচীন উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

​​উপজেলার বিভিন্ন মনসা মুড়া, কড়ইয়া বটতলা , সাচার, রহিমানগর ও নাউলা সহ প্রায় ২০টি স্থানে  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলায় বক্তদের ভীর দেখা গেছে। তবে কড়ইয়া বটতলা ও মনসা মুড়া এই মেলাটি তার শত বছরের ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল, মাটির তৈরি পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল এবং বাঁশ-বেতের তৈরি তৈজসপত্রের বিশাল সমাহার, ছোট-বড় সবার বিনোদনের জন্য মেলায় বসানো হয়েছে বিশালাকার নাগরদোলা ও নানা রকম সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। মেলার ঐতিহ্যবাহী মুড়লি, কদমা, বাতাসা আর খৈ-এর গন্ধে ম ম করছে বাতাস। সেই সঙ্গে রয়েছে গরম জিলাপির দীর্ঘ লাইন।

​তীব্র গরম উপেক্ষা করেই মেলায় ভিড় জমিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৈশাখী সাজে রঙিন হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে এসেছেন দর্শনার্থীরা।

Model Hospital

মেলা কমিটির সদস্য সুজন পোদ্দার জানান, এ বছর মেলায় লোকসমাগম বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করে থাকি।

​মেলায় আসা সুর্বনা আক্তার মিম এক দর্শনার্থী বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে এই মেলায় আসতাম। এখন সন্তানদের নিয়ে এসেছি। এই মেলা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

মেলার বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে প্রশাসন ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

​শত বাধা আর আধুনিকতার ভিড়ে কচুযার এই শত বছরের বৈশাখী মেলা আজও টিকে আছে বাঙালির মিলনমেলা হিসেবে। মেলার এই উৎসবমুখর পরিবেশ যেন জানান দিচ্ছে বাঙালি তার সংস্কৃতিকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।