বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মরাখালে প্রাণের স্রোত: কচুয়ার দু’টি খাল খননে কৃষকের মুখে হাসি

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
মরাখালে প্রাণের স্রোত: কচুয়ার দু’টি খাল খননে কৃষকের মুখে হাসি

কচুয়ায় তেতৈয়া, ঘাগড়া ও লক্সকরী খাল খননে কৃষক ও হাজারাও মানুষের স্বস্তি।

কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে কচুয়া উপজেলার ঘাগড়া থেকে লক্সকরী ও কচুয়া বাজারে প্রধান খালটি খনন করা হচ্ছে। ফলে শুকনো মৌসুমেও চাষাবাদে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, উত্তর কচুয়া ইউনিয়নের ঘাগড়া থেকে তেতৈয়া ও লক্সকরী এলাকায় একটি খাল ও বহুদিনের পুরনো কচুয়া বাজার প্রধান খালটি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এতে প্রতিবছর কৃষি জমিতে সেচ প্রদান ও বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়তে হয় ওই এলাকার কৃষকরা।

চলমান খননের ফলে খালগুলোতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হয়েছে। এছাড়া কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মৃতপ্রায় সবগুলো খাল খননের জন্য পরিকল্পনা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি মাঠের অধিকাংশ খাল গুলো খনন হচ্ছে। খননকৃত মৃত খালগুলোর এখন তার যৌবন ফিরে পেয়েছে। নাব্যতা হারানো মরাখাল খালগুলোর খননের ফলে খালের দুই পাড়ের প্রায় কয়েকশত হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা সহজ হওয়ায় ফলে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক পরিবারসহ লক্ষাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। ফলে এখন অধিক ফসলের স্বপ্ন দখেছে তারা।

কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া,ঘাগড়া,কড়ইয়া, কচুয়া বাজার ও নিশ্চিন্তপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষি প্রধান এই এলাকায় খালগুলো খননে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মানুষের মধ্যেই বিরাজ করছে এক ধরনের আনন্দ।

Model Hospital

প্রবাহিত স্বচ্ছ পানিতে ছলছল শব্দ হচ্ছে। আর তাতেই আনন্দ তাদের। যেন তারা বহুদিন এই পানি প্রবাহ দেখেনি। তাই তারা নতুন স্বপ্ন বুনছে এই খালের পানিতে। বিশেষ করে খালের পারের মানুষের আনন্দ ছিলো একটু বেশি।

জলা তেতৈয়া কৃষক বিশ্বনাথ জানান, পানির অভাবে ফসল উৎপাদন বিমুখ ছিলাম আমরা। খাল শুকনো থাকার জন্য দুর থেকে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি এনে চাষের জমি ভিজিয়ে বছরে এক ফসল চাষাবাদ করতাম। তাতে অনেক খরচ হতো। আবার সময়মতো পানিও পাওয়া যেতনা। এখন এই মরা খালটি খননের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানির সমস্যা কেটে গেছে। এখন খালের পানি জমিতে ব্যবহার করে রবি শস্যসহ ইরি-বোরো ফসল চাষাবাদ করতে পারব। আশা করি এবার আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

কড়ইয়া এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন,কড়ইয়া,কোয়া ও কচুয়া বাজারে প্রধান খালটি প্রায় দুই যুগের আগে ট্রলার, জাহাজ ও নৌকা দিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও মানুষের প্রয়োজনীয় সকল মালামাল আনা নেওয়া করতো। বর্তমান খালটি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বেদখল হওয়া বিশাল বড় খালটি অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে ।

এছাড়াও বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা ময়লা খালের ফেলে বর্তমান খালটি ভরাট হওয়া যাওয়ায় প্রায়মৃত পথে। বিশেষ করে এই অঞ্চলের মানুষের পানি পাওয়ার দূরের কথা দুর্গন্ধ জনিত কারণে বসবাস করাটাই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে খালটি খনন করার কাজ চলমান থাকায় বাজারভিত্তিক ও খালের আশপাশে বসবাসরত মানুষদের মধ্যে স্বস্তি ও মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে কৃষকদের মধ্যে অনেকটাই আনন্দের হাসি দেখা গেছে।

কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো.আব্দুল আলীম লিটন বলেন,প্রকল্প অনুযায়ী খাল গুলো যথাযথ ভাবে পুনঃ খনন করা হয়েছে। যার ফলে কৃষি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। এখন খালটি খননের ফলে এলাকার মানুষের কৃষি কাজসহ সবকাজেই সুবিধা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তপু আহমেদ বলেন, খাল পুনর্খনন হলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয় এবং একই সঙ্গে সেই পানি সংরক্ষণ করে সেচের কাজে ব্যবহার করা যায়। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পায়।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।