বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ১৮০টি বিদ্যালয়ে কোটি টাকার বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন এখন ‘শো-পিস’

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০২ এম
মতলব উত্তরে ১৮০টি বিদ্যালয়ে কোটি টাকার বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন এখন ‘শো-পিস’
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিনগুলো এখন পুরোপুরি অচল। পরিকল্পনাহীনতা, নিম্নমানের সরঞ্জাম ক্রয় এবং তদারকির অভাবে সরকারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ কোনও কাজেই আসছে না, যা স্থানীয়দের কাছে সরকারি অর্থের অপচয়ের এক অনন্য নজির হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসব মেশিন বসানো হয়। প্রতিটি মেশিনের জন্য বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ২৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হলেও বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এতে শুরু থেকেই অতিরিক্ত দামে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মেশিনগুলো খুঁজেই পাওয়া যায় না। কোথাও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অচল অবস্থায় ঝুলে আছে, আবার কোথাও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে ডাটাবেজ সংযোগ ছিল, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে মেশিনগুলো বিকল।
শিক্ষকদের অভিযোগ, নিম্নমানের হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পরে আর মেরামতের কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সেগুলো পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, মেশিন ক্রয়ে একটি সিন্ডিকেট জড়িত ছিল, যারা উচ্চমূল্যে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে।
৯২নং গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, প্রয়োজনীয় সংযোগের অভাবে শুরু থেকেই মেশিনটি অচল। বাস্তবতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় এর কোনও সুফল পাওয়া যায়নি।
১০নং ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান জানান, পরিকল্পনাহীনভাবে স্থাপন করা এসব মেশিন শুরু থেকেই অকার্যকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ মোল্লা বলেন, প্রকল্পটি তার যোগদানের আগের হলেও বাস্তবতা হলো কোনও বিদ্যালয়েই এখন বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সচল নেই।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital