বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় “বোরো ধান কাটার আগেই পানিতে ডুবলো কৃষকের স্বপ্ন”

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৯ পিএম
কচুয়ায় “বোরো ধান কাটার আগেই পানিতে ডুবলো কৃষকের স্বপ্ন”

ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রকৃতির নির্মম আঘাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কৃষকদের স্বপ্ন যেন পানিতে ভেসে গেল। সোমবার সন্ধ্যায় ঘণ্টাব্যাপী তীব্র ঝড়-বৃষ্টি এবং পরদিন মঙ্গলবারের টানা কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে মাঠজুড়ে জমে যায় হাঁটুসমান পানি। এতে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধু পানি আর পানি। কোথাও ধানের শীষ পানির নিচে, কোথাও বা আংশিক ডুবে আছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর কচুয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমির ধান বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

শুধু ধানই নয়, উপজেলার প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে চাষকৃত ভূট্টা (খরিপ ফসল)-ও রক্ষা পায়নি। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভূট্টা ক্ষেত পানির নিচে ডুবে গেছে, যা কৃষকদের জন্য নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একাধিক কৃষক জানান, “সারা বছরের কষ্ট, ঋণ করে চাষ-সবকিছুুু এখন পানির নিচে। আর যদি বৃষ্টি বাড়ে, তাহলে আমাদের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না।”

Model Hospital

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কিছুটা আশার কথা শোনানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফসল পানির নিচে থাকলেও তা এখনই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে-এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তারা এটিকে ‘পানিতে আক্রান্ত’ হিসেবে দেখছেন। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করা ছাড়া যেন আর কোনো উপায় নেই কচুয়াবাসী কৃষকদের। প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তার মাঝেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে-ধান থাকবে, না স্বপ্ন ডুবে যাবে পানির স্রোতে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।