বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ইউএনও’র মানবিক উদ্যোগে হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী শিশু

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
শাহরাস্তিতে ইউএনও’র মানবিক উদ্যোগে হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী শিশু
শাহরাস্তিতে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন। প্রতিবন্ধী নাতির চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ারের প্রয়োজন জানিয়ে দুইজন বৃদ্ধ ব্যক্তি ইউএনও’র বাসভবনে উপস্থিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের জন্য একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন তিনি।
শনিবার (৯ মে) উপজেলার সরকারি বাসভবনে এ মানবিক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, অসহায় পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুটির চলাফেরায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা কামনা করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজিয়া হোসেন তা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন এবং দ্রুত হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন।
হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান। তারা বলেন, “আমাদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে ইউএনও ম্যাডাম যেভাবে আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কখনো ভুলবো না। তাঁর এই সহমর্মিতা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা হয়ে এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের সহযোগিতায় প্রশাসন সবসময় আন্তরিক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ইউএনও’র এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এমন কর্মকাণ্ড প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।