বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় অপরাধ কমেছে, বেড়েছে পুলিশের প্রতি জনআস্থা

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
কচুয়ায় অপরাধ কমেছে, বেড়েছে পুলিশের প্রতি জনআস্থা

কচুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কচুয়া থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে উপজেলার অপরাধপ্রবণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।

গত এক মাসে কিশোর গ্যাং দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওসি আজিজুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কচুয়া উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ছাপ পড়তে শুরু করে। কমেছে মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। পাশাপাশি বেড়েছে পুলিশের সেবার মান ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ।

জানা যায়, কচুয়া উপজেলার অন্যতম বড় সমস্যা ছিল মাদক ও কিশোর গ্যাং। স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যায় অতিষ্ঠ ছিলেন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

Model Hospital

সূত্র জানায়, মাননীয় শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং কচুয়ার সংসদ সদস্য ড. আনম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় মাদক নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভিযানে ইতোমধ্যে অনেক চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। যদিও মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে সেগুলো শনাক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও কিশোর গ্যাং নির্মূলে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে থানা পুলিশ। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা ও আড্ডা অনেকটাই কমে এসেছে। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছেন।

সাচার এলাকার শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, “আমি শুনেছি ওসি সাহেব মাদক, কিশোর গ্যাং ও জুয়া নির্মূলে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আমরা তো এমন পুলিশই চাই।”

বরইগাঁও যুব উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাহার আহমেদ মজুমদার বলেন, “পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায়ও মাদক বিক্রি হতো। সন্ধ্যার পর অনেক রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় লাগতো। এখন আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। তবে মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি, ডাকাতি ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে কচুয়া থানার ওসি মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ মাদক ব্যবসা বন্ধ করা এবং কিশোর গ্যাং নির্মূল করা। আমি মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছি। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকি থাকলেও পিছু হটছি না। যতদিন এখানে দায়িত্বে থাকবো, মাদকের বিষয়ে কোনো আপস হবে না।”

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’