বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর নিকট চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর নিকট চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আবেদন

শনিবার ১৬ মে ২০২৬ চাঁদপুর সফরে  করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী  আগমন উপলক্ষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট সাংবাদিকদের মান উন্নয়ন, অবকাঠানো উন্নয়ন ও আথিক অনুদান প্রদানসহ কয়েকটি আবেদন তিনি তুলে ধরেছেন।

লিখিত উক্ত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন,  ঐতিহ্যবাহী ও সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ পেশাজীবী সংগঠন। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব এবং চাঁদপুর জেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাদার সাংবাদিকদের যোগ্য নেতৃত্বে সংগঠনটি দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও স্থানীয় জনকল্যাণে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের বৃহত্তর কল্যাণে আমরা আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। মাঠ পর্যায়ের পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আপনার সমীপে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি সশ্রদ্ধচিত্তে পেশ করছি:

Model Hospital

১। দেশের সকল মফস্বল সাংবাদিককে (সংশ্লিষ্ট প্রেস ক্লাব কর্তৃক মনোনীত) নিয়ে ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করা।

২। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় এককালীন বিশেষ অনুদান বরাদ্দ প্রদান।

৩। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও আয়বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্লাব বরাবর ১০ (দশ) শতাংশ ভূমি বরাদ্দ (নামজারিসহ) প্রদান এবং উক্ত ভূমিতে মার্কেট নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৪। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য স্থায়ী আবাসনের সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৫। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে অসুস্থ্য ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন।

৬। চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সভাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কমিটিতে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরকারের জনহিতকর কাজগুলো সম্পর্কে সরাসরি অবগত হতে পারবে।

৭। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মান বৃদ্ধিকল্পে নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

পেশাদার সাংবাদিকদের উৎকর্ষ সাধন, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের অস্তিত্ব রক্ষার্থে উপরোক্ত আবেদনসমূহ সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করি।

উল্লেখিত বিষয়গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ, মানবতা ও সাংবাদিকদের কল্যাণে গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ দেখতে পারেন চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।