রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন: কচুয়ায় চাষির ২০ লাখ টাকার স্বপ্ন ভেসে গেল
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় একটি মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন এর কাপিলাবাড়ি গ্রামের মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন মাছচাষি মো. শাহাদাত হোসেন মজুমদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত হোসেন মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে ১৪২ শতাংশ জমিতে মাছের প্রজেক্ট গড়ে তুলে পাঙ্গাস মাছ চাষ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে তাঁর মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত চাষির ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি মো. শাহাদাত হোসেন মজুমদার বলেন, “বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আমি এই মাছের প্রজেক্ট শুরু করি। এক বছরের পরিশ্রমে মাছগুলো বড় করেছি। রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। সকালে এসে দেখি সব পাঙ্গাস মাছ মরে পানির ওপরে ভেসে উঠছে। মাছের খাবার, রেণু পোনা ও পরিচর্যায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ কীভাবে পরিশোধ করব বুঝতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, “তিন দিন আগে এলাকার কিছু বখাটে ছেলে আমার আমগাছের আম ছিঁড়ে নষ্ট করে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষতি করার হুমকি দেয়। ধারণা করছি, তারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।”

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা মৎস্য অফিস এর অতিরিক্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি আমার কাছে এসেছিলেন। পুকুরের পানি পরীক্ষা করে গ্যাস বা প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষ প্রয়োগের কারণেই মাছগুলো মারা গেছে। তাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে কচুয়া থানা এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”





