বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়

জাতীয়তাবাদী দলে মাদকসেবী ও কারবারিদের স্থান নেই : ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:১৬ এম
জাতীয়তাবাদী দলে মাদকসেবী ও কারবারিদের স্থান নেই : ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি
শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৃথক দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপিকে।
উপজেলা নির্বাহী  অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লায়ন ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমান শাহরাস্তির খোর্দ্দ শৈলখালী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের এ জনপদে আগমন শাহরাস্তিবাসীর জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি ওই কর্মসূচি সফল করতে তৎকালীন ইউএনও নাজিয়া হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য মমিনুল হক বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে মাদকের সঙ্গে জড়িত সিএনজি চালকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনে যানবাহন জব্দ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরি, ব্যাংক ঋণ, সামাজিক নেতৃত্ব কিংবা রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কোথাও মাদকসেবী বা মাদক কারবারিদের স্থান নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ব্যবহার সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট অফিসিয়াল মোবাইল ফোন রাখা যেতে পারে। এতে মোবাইলের অপব্যবহার কমবে এবং কিশোর গ্যাং, মাদক ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
দ্বিতীয় সভায় উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য শোনেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, সমাজে পুঞ্জিভূত বৈষম্য, অনিয়ম ও অনাচার দূর করতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আগামী পাঁচ বছর সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
সরকারি কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং দমন, মাদক নির্মূল এবং বাজার মনিটরিং জোরদারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, “শাহরাস্তির সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মাননীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জি. মমিনুল হক এমপির দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সহযোগিতা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা, শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহজাহান পাটোয়ারী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকলিমা জাহান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল হোসেন,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম পাটোয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল কালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন ও সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইঞ্জি. এবিএম পলাশ ও সদস্য সচিব আজগর হোসেন মিয়াজী, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন, সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন শিপন, নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ও জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী  উপস্থিত ছিলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।