উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন পর্ষদের প্রথম সভায়
ইঞ্জি. মমিনুল হকের উন্নয়ন ছোঁয়া: আধুনিকায়নের পথে উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
শাহরাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত অ্যাডহক পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় নতুন কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভা শুরুর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ ও ইতিহাস জড়িয়ে আছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়টি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বিদ্যালয়টিকে ঘিরে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত হলে এ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক চিত্র পাল্টে যাবে। মাঠ ভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী বলেন, ব্যবসা, কর্পোরেট পেশা ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি। এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি চাই, আমার দায়িত্বকালে শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক।
তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজ ও মেহের ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে চাই। মাননীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ অনুমোদন পেয়েছে, যা খুব দ্রুত শুরু হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে পর্যায়ক্রমে টেকনিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও এগিয়ে চলছে।
সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জন্য পৃথক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালু এবং অনলাইন সভা ও পাঠদানের সুবিধার্থে জুমভিত্তিক ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও পাঠগ্রহণ সক্ষমতার ভিত্তিতে ক, খ ও গ—এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত করে বিশেষ পরিচর্যার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন, শিক্ষার্থীদের তথ্য ও নোটিশ প্রেরণে অভিভাবকদের সক্রিয় মোবাইল নম্বর সংগ্রহ এবং এসএমএসের মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
সভায় বিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিগত পাঁচ বছরের শিক্ষক ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নিরীক্ষা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সভাপতির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজীকরণ, নেটওয়ার্ক জটিলতা দূর করতে টেলিকম অপারেটর পরিবর্তন এবং নতুন ভবন নির্মাণে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আগামী জুন মাসের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকার গুণীজনদের অংশগ্রহণে বৃহৎ মতবিনিময় সভা ও চা-চক্র আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ আমির হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ বিল্লাল হোসেন, সাবেক সভাপতি ইয়ামিন, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিনা আক্তার, আকলিমা আক্তার এবং বিএনপি নেতা রফিক, সাগর,খোরশেদ, ছাত্রদল নেতা আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।





