শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে নার্সারি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম 

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৩০ এম
শাহরাস্তিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে নার্সারি শিক্ষার্থীর মৃত্যু, পরিবারে শোকের মাতম 
শাহরাস্তিতে আগুনে দগ্ধ হয়ে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শেখ জায়েদের (শিশু) মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন অকাল বিদায়ে সহপাঠী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে বিষণ্নতা ও বেদনাময় আবহ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেহের দক্ষিণ ইউপির  রাজারখাঁ এলাকার পোড়াবাড়ির বাসিন্দা মোঃ জহিরুল ইসলাম ও নাঈমা আক্তার দম্পতির সন্তান মোহাম্মদ শেখ জায়েদ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার জানায়, গত ১৬ মে শনিবার বাড়িতে ধান সিদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত উনানের জ্বলন্ত পরিত্যক্ত ছাইয়ের স্তূপে অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয় শিশুটি।
স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দীর্ঘ ছয়দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে গত ২২ মে শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। শনিবার তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, জায়েদ ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় এক কোমলমতি শিক্ষার্থী। স্বল্প সময়েই সে শিক্ষক ও সহপাঠীদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনিরা খাতুন শোক প্রকাশ করে বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক বিদায় সত্যিই হৃদয়বিদারক। ছোট্ট জায়েদের চলে যাওয়া তার পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি তার পরিবারকে। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন শোক বহনের শক্তি দান করেন। এই কঠিন সময়ে পুরো বিদ্যালয় পরিবার তাদের পাশে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ ওসমান গনি  বলেন, জায়েদ ছিল অত্যন্ত চঞ্চল, মিষ্টভাষী ও সবার প্রিয় একটি শিশু। শ্রেণিকক্ষে তার উপস্থিতি ছিল প্রাণবন্ত। তার হাসিমাখা মুখ আর ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমিগুলো আমাদের সবার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। এমন কোমল বয়সে তার চলে যাওয়া শিক্ষক হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
বিদ্যালয় খুললেই  জায়েদের মৃত্যুর শ্রেণিকক্ষে তার পরিচিত বেঞ্চটি যেন নিঃশব্দ শূন্যতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে । সহপাঠীদের অনেকেই ওই সংবাদ শুনে  এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না যে তাদের প্রিয় বন্ধু আর কখনও ক্লাসে ফিরবে না।
অবুঝ কণ্ঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা প্রতিদিনের মতো জায়েদকে খুঁজবেন। তার ছবি দেখে কেউ কেউ কেঁদে ফেলছে, আবার কেউ স্মরণ করছে একসঙ্গে কাটানো ছোট ছোট আনন্দঘন মুহূর্ত।
মোহাম্মদ শেখ জায়েদের মৃত্যুতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা -কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা শোকাহত পরিবারের জন্য ধৈর্য ও মানসিক শক্তি কামনা করেছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital