বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রাতে প্রাকৃতিক ডাকে বের হয়ে সাপের ছোবলে শিশুর মৃত্যু

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
শাহরাস্তিতে রাতে প্রাকৃতিক ডাকে বের হয়ে সাপের ছোবলে শিশুর মৃত্যু
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিষাক্ত সাপের কামড়ে পার্থ চন্দ্র দাস (৮) নামের এক স্কুলশিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ বাবা-মা।
রোববার রাতে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির  (সূচীপাড়া)  বড় বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পার্থ স্থানীয় সূচীপাড়া পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্র এবং ব্রিকফিল্ড শ্রমিক পংকজ দাসের (৪০) এর  বড় পুত্র।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতে ঘরের আঙিনায় প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বের হলে পার্থর পায়ে কোনো একটি বিষধর সাপ ছোবল দেয়। প্রথমে শিশুটি এটিকে ব্যাঙ বলায় পরিবারের নিকট বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা এটি সাপের দংশন আঁচ করতে পেরে তাকে দ্রুত শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাপের কামড় শনাক্ত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে কুমিল্লায় নেওয়ার পথেই শিশুটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
এদিকে ওই পরিবারটির সন্তান হারাবার মিছিলে যুক্ত হল তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
ট্র্যাজেডি আরও গভীর জানা গেছে, নিহত পার্থর ছোট ভাই গত বছর পানিতে ডুবে মারা যায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দুই সন্তান হারিয়ে পংকজ দাস ও তার স্ত্রীর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পার্থর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোকন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন,পার্থ ছিল অত্যন্ত শান্ত ও মেধাবী শিশু। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল জানায়, শাহরাস্তি উপজেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদী ও এর অববাহিকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চল ও দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে বানের পানির সঙ্গে ভেসে আসে বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত সাপ। ফলে প্রতিবছরই সাপের কামড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরেই শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার জরুরি প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে কুমিল্লা কিংবা চাঁদপুরের বড় হাসপাতালে ছুটতে হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মীর মাহবুবুর রহমান এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন,একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক শাহরাস্তি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ দুলাল চন্দ্র ঘোষ জানান,বর্ষা মৌসুমে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো প্রাণীর কামড়কে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত সেবা নিতে হবে। এতে মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পাবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital