শাহরাস্তিতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, জনজীবন বিপর্যস্ত
জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ আঘাত হানা ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ।

বুধবার সকালে কয়েক মিনিটের তাণ্ডবেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গাছপালা উপড়ে পড়া, ফসল ও সবজিখেত নষ্ট হওয়াসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তীব্রতায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঈদুল আজহার প্রস্তুতির মধ্যেই এমন দুর্যোগে বিপাকে পড়েছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিজমেহার পূর্বপাড়া চাঁদগাজী বাড়িতে প্রবাসী ইমরান হোসেনের বসতঘরের ওপর একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়লে মুহূর্তেই দুটি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। একইভাবে চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের নুনিয়া ব্যাপারি বাড়ির দিনমজুর আবু বকর সিদ্দিক এবং নিজমেহার মিয়াজী বাড়ির মনি বেগমের ঘরবাড়িও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত, বিলম্বে রোপণ করা ধান ও গোখাদ্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ও নিম্নআয়ের পরিবার হঠাৎ এ দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটগুলোতেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ঝড়ের পর বাজার ও হাটে পানি জমে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শাহরাস্তি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নিজাম উদ্দিন সামস্ জানান, ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে একাধিক টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরোপুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “দুর্যোগের পর থেকেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও সড়ক সচল রাখতে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা না পেলে অনেক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।





