বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

যোগদানের ১৯ দিনের মাথায়........

শাহরাস্তি পৌরসভার বর্জ্য অপসারণে মাঠে ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
শাহরাস্তি পৌরসভার বর্জ্য অপসারণে মাঠে ইউএনও মনিরা খাতুন

শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

শনিবার (৬ জুন) পৌরসভার মেহের কালীবাড়ি বাজার সংলগ্ন সাবেক ভোগের পুকুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লার স্তূপ অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নিতে গিয়ে ইউএনও মনিরা খাতুন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্নের নির্দেশনা দেন। দিনব্যাপী অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

Model Hospital

এ সময় তিনি পৌরসভার পশ্চিম পাশের সড়কে চলমান একটি ড্রেন নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ থাকায় সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে  দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করার নির্দেশ দেন তিনি।

অভিযান ও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার অ্যাকাউন্টস অফিসার সৈয়দ মশিউর রহমান, প্রধান অফিস সহকারী মো. নজরুল ইসলামসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৫ আগস্ট ২০২৪ দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য পৌরসভার মতো শাহরাস্তি পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র পদও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে আজ ৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৫৭ দিন (১ বছর ৯ মাস ১৭ দিন) ধরে নির্বাচিত মেয়রের অনুপস্থিতিতে সরকারি প্রশাসকদের মাধ্যমে পৌরসভাটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মেয়র পদ বিলুপ্তির পর প্রথম পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন ইউএনও মো. ইয়াসির আরাফাত। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও পৌর শহরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে শাহরাস্তির ইউএনও হিসেবে যোগদানকারী নিগার সুলতানা পদাধিকারবলে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে মেহের গোদাখালসহ পৌরসভার বিভিন্ন জলাধার থেকে বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং অবৈধ মাটি কাটা ও টপসয়েল লুটপাটের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নাজিয়া হোসেন। তিনি দীর্ঘ সময় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর মেয়াদকালে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসকদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বিশেষ করে কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ টপসয়েল উত্তোলন ও মাটি লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন।

সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শাহরাস্তি উপজেলার নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন মনিরা খাতুন। পদাধিকারবলে তিনি বর্তমানে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পৌরসভার নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলেও ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী চার ইউএনওর প্রশাসনিক নেতৃত্বে পৌরসভার সেবামূলক কার্যক্রম ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মনিরা খাতুন বলেন, “গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান থাকবে। আমি যোগদান করেছি মাত্র ১৯ দিন হয়েছে। পৌর শহরের সব সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে মাননীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি মহোদয়ের, পৌর নাগরিক এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি বাহিত রোগ ও ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে  সচেতন থাকার আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital