বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
কচুয়ায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করছেন নিহতের ছোট ছেলে ছানাউল উল্যাহ।

চাঁদপুরের কচুয়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার।  সোমবার (৮ জুন)  সকালে ডাকবাংলো  আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে নুরুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরদিন ৩০ মে শনিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রবিবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার কচুয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছেলে ছানাউল্লাহ বলেন, আমরা প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছি। কিন্তু আল্টিমেটামের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আমরা চাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক।

তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলাম শুধু একজন ব্যবসায়ীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কচুয়া বাজারের ব্যবসায়ী সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়ী সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Model Hospital

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কচুয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম এবং কচুয়া জামেয়া আহমেদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মোঃ আবু হানিফ। বক্তারা বলেন, এমন একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে মানুষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন, জড়িত সকল আসামির অবিলম্বে গ্রেপ্তার, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

বক্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তদন্তের অগ্রগতি দ্রুত দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ব্যবসায়ী সমাজ ও পরিবারবর্গ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।