বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা কারাগারে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা

কারাগার শুধু শাস্তি ভোগের স্থান নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র : চাঁদপুর ডিসি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কারাগার শুধু শাস্তি ভোগের স্থান নয়, বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্র : চাঁদপুর ডিসি

চাঁদপুর জেলা কারাগারে কারাবন্দীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকমুক্ত জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ধ্বংসকারী ব্যাধি। যারা কোনো না কোনো কারণে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য সংশোধন ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ রয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে চাঁদপুর জেলা কারাগারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও জেলা কারাগারের যৌথ উদ্যোগে কারাবন্দীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদক মুক্ত জীবন গঠনের উদ্দেশ্যে মাদকবিরোধী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক কারাবন্দিদের উদ্দেশে বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি ভোগের স্থান নয়; বরং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মাদকের অন্ধকার পথ থেকে সরে এসে সৎ, কর্মমুখী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Model Hospital

জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে এবং তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চাই একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

এসময় জেলা কারাগারের জেলার মোঃ জুবাইর হোসেন, কারাগারের নতুন সহকারী সার্জন ডাঃ মামুন সরকার

অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ মাদক মামলায় আটক কারাবন্দিদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কারাবন্দিদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।