বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণ

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণ ২০২৬ সমাপনী ও রেফেল ড্র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।

সাংবাদিকদের পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে(৪জুন থেকে ৮জুন পর্যন্ত) পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার (ট্যুর)সমুদ্র সৈকতে আনন্দ ভ্রমণ- ২০২৬ খ্রি.অত্যন্ত সফলভাবে  আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এ আনন্দ ভ্রমণে প্রেস ক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
ভ্রমণকালে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত-এর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সমুদ্রের গর্জন, নির্মল বাতাস এবং আনন্দঘন পরিবেশে কাটানো সময় সবার মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা সঞ্চার করে।
আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পেশাগত কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করাই এ ভ্রমণের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভ্রমণ চলাকালে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম, মতবিনিময় এবং স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪জুন) রাত থেকে সোমবার (৮জুন) পর্যন্ত এই আনন্দ ভ্রমণ শেষে সোমবার রাত১১টায় সকলে নিরাপদে চাঁদপুর এসে পৌঁছেছেন। এই বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক সদস্য তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশ নেন।
এ বার্ষিক আনন্দ ভ্রমন সফল করার পেছনে অগ্রণী ভুমিকায় ছিলেন আনন্দ ভ্রমণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক রহিম বাদশা, সদস্য সচিব জিএম শাহীন, সমন্বয়কারী ছিলেন আব্দুল আউয়াল রুবেল।
এদিকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনন্দ ভ্রমনের সমাপনী অনুষ্ঠান ও ভ্রমণের সবচাইতে  আকর্ষণীয় পর্ব রেফেল ড্র কক্সবাজার কলাতলী রোডস্থ গ্যালাক্সি রিসোর্ট মিলনায়তনে রোববার (৭জুন)  রাত দশটায় অনুষ্ঠত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
সোহেল রুশদী বলেন, ঐতিহ্যবাহী চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনন্দ ভ্রমণ সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এজন্য যারা সহযোগিতা করছেন সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এ ছাড়াও অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন আনন্দ ভ্রমণ উদযাপন কমিটির আহবায় রহিম বাদশা, সমস্যা সচিব জিএম শাহীন, সমন্বয়কারী আব্দুল আউয়াল রুবেল ভাইয়ের প্রতি।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী আরো  বলেন, “সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য বৃদ্ধি এবং কর্মব্যস্ত জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।চাঁদপুর প্রেসক্লাব সবসময় সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের  চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের  কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন  কক্সবাজার গ্যালাক্সি রিসোর্ট এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর পক্ষে রিসোর্সের ম্যানেজার সফিউল আজম রিপন।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, গিয়াস উদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সিনিয়র সদস্য মুনির চৌধুরী, সিনিয়র সদস্য আলম পলাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, আল ইমরান শোভন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আউয়াল রুবেল, সাংবাদিক এম আর ইসলাম বাবু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, শরীফ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, কাদের পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম রনি, কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাউদ্দিন, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম, আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক সেলিম রেজা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুনাওয়ার  কানন, কার্যকরী সদস্য মো : ইলিয়াস হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সদস্য মো: ইউনুছ উল্লাহ, ওয়াদুদ রানা, হাসান মাহমুদ,  মিজান লিটন,   মোঃ মাসুদ আলম, আনোয়ারুল হক, বিল্লাল ঢালী, আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, মাজহারুল ইসলাম অনিক, মো : আল আমিন ভূঁইয়া, আহমদ উল্লাহ, রেজাউল করিম প্রমুখ।
এ আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ ভ্রমণ অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের কাছে হয়ে থাকবে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের এমন উদ্যোগ সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
আমরা যা দেখলাম : কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সমৃদ্ব ও উন্নত হচ্ছে । রাস্তাঘাট, দোকান পাট ও আবাসিক হোটেল/মোটেল ও ভবন সবকিছুই ঝকঝকে ও চোখে পড়ার মতো। রাতের দৃশ্যও মনোরম।
সুন্দর ও পরিপাটি আবাসিক হোটেলে আমরা রাত যাপন করি আর দিনে সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের গজর্ন। এ গর্জন যে অবিরাম চলছেই !
এছাড়াও হিমছরি, ইনানীতে, নতুন স্পট মারমেইডে মহা আনন্দে মনে ও প্রাণে সমুদ্র দেখে তার অপরুপ সৌন্দর্য । ইচ্ছে হয় বার বার যাই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পৃথিবীর সবর্বৃহৎ এ সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে এলাকার কোন লোক বেকার থাকছে না।শত সহস্র লোকের রুটি রোজগার হচ্ছে । ছোট-বড়-মাঝ বয়সী সবাই অর্থ উপার্জনের কাজে লেগে আছেন। অর্রথের বিনিময়ে দিচ্ছেন আগন্তুক টুরিষ্টদের এক ধরনের সেবা ।কেহ ডাব বিক্রি করছেন, কেহ ছবি তুলছেন বা তুলতে সাহায্য করছেন, ঘোড়ায় চড়াচ্ছেন, কেহবা ট্রলিগাড়ীতে আপনাকে চড়িয়ে ৩০০/৪০০ টাকার বিনিময়ে ঘুরে ঘুরে বিশাল সমুদ্র সৈকত দেখাচ্ছেন, প্রবাল দেখাচ্ছেন, কাঁকড়া সৈকতও দেখাচ্ছেন।
কেহ ঝাল মুড়ি, চটপটি , খিরাই, কেহ পাকা কলা, বাদাম, পানসুপারি সিগারেট, কেহ বড় ছাতার নীচে বেডে বসার জন্য টাকা নিচ্ছেন ও ঘুড্ডী উড়ানোর ব্যবস্থা করছেন, আবার কোন কোন ড্রপ -আউট শিশু-কিশোর ছেলে -মেয়ে প্রচন্ড অভাবের কারনে বোতলের পানি, হাওয়াই মিঠা ও ফুলের মালা বিক্রি করছেন। সবচেয়ে বেশী পকেট কাটছেন অটো রিক্সার ড্রাইভাররা ও স্থানীয় টং দোকানীরা। তবে এটা কারো গায়ে লাগে না ।ভ্রমনে খরচতো হবেই । প্রত্যেক ড্রাইভার খুব ধীরে ও সতকর্তার সাথে আপনাকে নিয়ে যাবে বিভিন্ন আকষর্নীয় স্পটে । আপনার ফিরে না আসা পর্যন্ত ওরা অপেক্ষা করে । ওদের ব্যবহার বিনম্র ও মাজির্ত।
কক্সবাজারে এখানে সেখানে ঘুরাঘুরিতে , শুটকী কেনা ও বামির্জদের দোকানে কাপড়চোপড় কেনা কাটা, খাবারদাবারে, সুন্দর হোটেলে থাকায় প্রতিদিন এ সমুদ্র সৈকতে টুরিষ্টদের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে দৈনিক প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো। কক্সবাজার থেকে চাঁদপুরে ফিরতে ছিলাম গত সোমবার সকালে ।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এবারের আনন্দ ভ্রমনটি ছিলো সম্পূর্ণ আলাদা। ভ্রমণের প্রকৃত স্বাদ উপভোগ করেছেন সাংবাদিক ও তাদের পরিবার। রান্নার কাজে চাঁদপুর থেকে আনা হয়েছে বাবুর্চি (আজম বাবুর্চি) ও তার দল। তারা সঠিক সময়ে খাবার পরিবেশন করেছেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।