বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাস্তা না থাকায় পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস

হাজীগঞ্জের হাটিলায় আগুনে পুড়লো ঘর; দগ্ধ বাবা-ছেলে

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
হাজীগঞ্জের হাটিলায় আগুনে পুড়লো ঘর; দগ্ধ বাবা-ছেলে

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হাটিলা মজুমদার বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি দমকল বাহিনী। এতে দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বাবা-ছেলে। গুরুতর আহত রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে রুবেল (৩০), পিতা- দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের সকল আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই সঙ্গে পাশ্ববর্তী একটি বিল্ডিংয়ের এক পাশের দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত রুবেল বলেন, “পাশের ঘর থেকে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে সকলে এসে দেখি ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আমরা চেষ্টা করেছি আগুন নেভানোর, কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে যায়।”

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন রুবেল ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে মিহির। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ হাদি বলেন, “রাত তখন শেষের দিকে। আহতরা কোনো যানবাহন না পাওয়ায় আমরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করি। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।”

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।”

তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে পশ্চিম হাটিলা গ্রামের সড়ক সংকট। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকাটিতে এখনো জরুরি সেবা পৌঁছানোর উপযোগী একটি প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস রওনা দিলেও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে তাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্থানীয় গ্রামবাসী নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় ও স্বপ্ন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, একটি উপযুক্ত সড়কের অভাবে বছরের পর বছর ধরে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য সেবাদানকারী যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে না পারায় সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।

এদিকে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি দ্রুত পশ্চিম হাটিলা এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও একটি টেকসই সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, “আজ আগুনে একটি ঘর পুড়েছে, কাল হয়তো কোনো প্রাণহানি ঘটবে। আমরা শুধু এমন একটি রাস্তা চাই, যেখান দিয়ে বিপদের সময় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে।”

পশ্চিম হাটিলার এই অগ্নিকাণ্ড যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—একটি রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক সময় সেটিই মানুষের জীবন রক্ষার শেষ ভরসা।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।