রাস্তা না থাকায় পৌঁছাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস
হাজীগঞ্জের হাটিলায় আগুনে পুড়লো ঘর; দগ্ধ বাবা-ছেলে
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হাটিলা মজুমদার বাড়িতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি দমকল বাহিনী। এতে দগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বাবা-ছেলে। গুরুতর আহত রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে রুবেল (৩০), পিতা- দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের সকল আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। একই সঙ্গে পাশ্ববর্তী একটি বিল্ডিংয়ের এক পাশের দেয়ালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত রুবেল বলেন, “পাশের ঘর থেকে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে সকলে এসে দেখি ঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে। আমরা চেষ্টা করেছি আগুন নেভানোর, কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে যায়।”

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন রুবেল ও তার ১০ বছর বয়সী ছেলে মিহির। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত রুবেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ হাদি বলেন, “রাত তখন শেষের দিকে। আহতরা কোনো যানবাহন না পাওয়ায় আমরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করি। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।”
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।”
তবে এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে পশ্চিম হাটিলা গ্রামের সড়ক সংকট। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকাটিতে এখনো জরুরি সেবা পৌঁছানোর উপযোগী একটি প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়নি। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস রওনা দিলেও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে তাদের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে স্থানীয় গ্রামবাসী নিজেরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় ও স্বপ্ন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, একটি উপযুক্ত সড়কের অভাবে বছরের পর বছর ধরে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য সেবাদানকারী যানবাহন এলাকায় প্রবেশ করতে না পারায় সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়।
এদিকে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি দ্রুত পশ্চিম হাটিলা এলাকায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও একটি টেকসই সড়ক নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, “আজ আগুনে একটি ঘর পুড়েছে, কাল হয়তো কোনো প্রাণহানি ঘটবে। আমরা শুধু এমন একটি রাস্তা চাই, যেখান দিয়ে বিপদের সময় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে।”
পশ্চিম হাটিলার এই অগ্নিকাণ্ড যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—একটি রাস্তা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক সময় সেটিই মানুষের জীবন রক্ষার শেষ ভরসা।





