বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে রাতে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা: ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দিল পুলিশ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
শাহরাস্তিতে রাতে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা: ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দিল পুলিশ
কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণতা ও রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।
অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে অভিভাবকদের সতর্কীকরণ ও জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টা থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শাহরাস্তি থানাধীন মেহের উত্তর ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মোঃ আইয়ুব খাঁন, এএসআই (নিঃ) ফারুক আহাম্মদ ও এএসআই (নিঃ) হাবিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
অভিযান চলাকালে রাতের বেলায় অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার সময় ৯ কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। তবে ওই সময় বাইরে অবস্থানের যৌক্তিক কারণ সম্পর্কে তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
পরবর্তীতে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আচরণের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তারা অঙ্গীকার করেন, তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে রাতের বেলায় অযথা ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং তাদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক পথে পরিচালিত করা। কিশোর বয়সের সাময়িক ভুল যেন ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগই কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে। ওসি আরও বলেন, “কিশোর গ্যাং, মাদক, সাইবার অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে শাহরাস্তি থানা পুলিশের জনসচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।