শাহরাস্তিতে রাতে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা: ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দিল পুলিশ
মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫৭ এম
কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি, অপরাধপ্রবণতা ও রাতের বেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।
অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে অভিভাবকদের সতর্কীকরণ ও জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টা থেকে রাত ৯টা ১০ মিনিট পর্যন্ত শাহরাস্তি থানাধীন মেহের উত্তর ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন এসআই (নিঃ) মোঃ আইয়ুব খাঁন, এএসআই (নিঃ) ফারুক আহাম্মদ ও এএসআই (নিঃ) হাবিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
অভিযান চলাকালে রাতের বেলায় অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার সময় ৯ কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। তবে ওই সময় বাইরে অবস্থানের যৌক্তিক কারণ সম্পর্কে তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।
পরবর্তীতে আটক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় উপস্থিত হয়ে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আচরণের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তারা অঙ্গীকার করেন, তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে রাতের বেলায় অযথা ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের কঠোরভাবে সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং তাদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে সঠিক পথে পরিচালিত করা। কিশোর বয়সের সাময়িক ভুল যেন ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগই কিশোরদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে। ওসি আরও বলেন, “কিশোর গ্যাং, মাদক, সাইবার অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে শাহরাস্তি থানা পুলিশের জনসচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।






