মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের রুপসায় পিএমকের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৫ শতাধিক মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ পিএম
ফরিদগঞ্জের রুপসায় পিএমকের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেলেন ৫ শতাধিক মানুষ
প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুপসা শাখায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী (পিএমকে)।
এ ক্যাম্পে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ, স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং চক্ষুসেবাও প্রদান করা হয়।
রবিবার (১৪ জুন) রুপসা শাখা কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে সকাল থেকেই রোগীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ক্যাম্পে মেডিসিন, গাইনি, শিশু, চর্ম ও যৌনরোগ, সার্জারি এবং চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। সেবাদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে ছিলেন ডা. লিমন আহমেদ, ডা. রাসেল রানা, ডা. ইবরাহিম এবং ডা. জাহিদ।
ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন রুপসা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখার হিসাবরক্ষক আলতাব হোসেনসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এখনও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় পিএমকে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, মানব কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, এ ক্যাম্পে রোগীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি চক্ষুরোগীদের পাওয়ার অনুযায়ী চশমা ও চোখের ড্রপও প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ নূরুন্নবী বলেন, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে পিএমকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু কল্যাণ, চক্ষুচিকিৎসা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়নই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক নারী উপকারভোগী বলেন, অর্থাভাবে অনেক সময় ভালো চিকিৎসক দেখানো কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চক্ষুসেবা পেয়ে তারা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন।
অপর এক প্রবীণ সেবাগ্রহীতা বলেন, একসঙ্গে এতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার সুযোগ তাদের জন্য বিরল। চিকিৎসকেরা আন্তরিকতার সঙ্গে রোগীদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা দিয়েছেন, যা তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে উপকারভোগীরা পিএমকের প্রধান নির্বাহী কামরুন্নাহার, উপ-প্রধান নির্বাহী দেওয়ান ফয়সাল এবং পিএমকে হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ও হেড অব হেল্থ ডা. কাজী সুদীপ্তা কবিরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।