বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মাদকের বিস্তাররোধ ও আমাদের করণীয় শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : জেলা প্রশাসক

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : জেলা প্রশাসক

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে “মাদকের বিস্তাররোধ ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে “মাদকের বিস্তাররোধ ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২ টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। প্রত্যেক পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে এবং তাদের চলাফেরা ও বন্ধুবান্ধব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন, বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডঃ ইকবালুর রহমান, সময় টিভির চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক মুহাঃ মিজানুর রহমান।

বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, এর বিস্তার রোধে করণীয় এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।