বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ফের আলোচনায় ডা. আরিফ; ৮ কেজির পর এবার সফল অস্ত্রোপচারে বের করলেন ৩ কেজির টিউমার

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ এম
শাহরাস্তিতে ফের আলোচনায় ডা. আরিফ; ৮ কেজির পর এবার সফল অস্ত্রোপচারে বের করলেন ৩ কেজির টিউমার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় আবারও একটি জটিল অস্ত্রোপচারে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান। এবার তিনি ২২ বছর বয়সী এক নারীর পেট থেকে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কেজি ওজনের একটি বড় টিউমার অপসারণ করেছেন। মফস্বল এলাকার একটি হাসপাতালে এমন জটিল অস্ত্রোপচারের সফল সমাপ্তি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে শাহরাস্তি উপজেলার মেডিল্যাব হসপিটাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনটির নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও অভিজ্ঞ সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান। অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করেন হাসপাতালের দক্ষ চিকিৎসক, অ্যানেস্থেশিয়া ও নার্সিং টিম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী দীর্ঘদিন ধরে পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব, ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করলে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রয়োজনীয় আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বড় আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার সফল অপারেশনে রোগীর পেট থেকে প্রায় ৩ কেজি ওজনের টিউমারটি নিরাপদে অপসারণ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে রোগী চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি শঙ্কামুক্ত।

Model Hospital

অস্ত্রোপচার শেষে সার্জন ডা. মো. আরিফ উল হাসান বলেন, “রোগী দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর যথাযথ পরিকল্পনা করে অস্ত্রোপচার করা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে সফলভাবে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রোগী ভালো আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, এটি ডা. আরিফ উল হাসানের প্রথম আলোচিত অস্ত্রোপচার নয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই হাসপাতালে তিনি এক নারীর পেট থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের বিশাল টিউমার সফলভাবে অপসারণ করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এছাড়াও ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি আরেকটি ব্যতিক্রমী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক ব্যক্তির পায়ুপথে আটকে থাকা প্রায় ৬ ইঞ্চি আকারের একটি ডাব কোনো ধরনের কাটা ছাড়াই সফলভাবে বের করে চিকিৎসা অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেন। সেই ঘটনাও দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বাইরে মফস্বল পর্যায়ে এমন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক। এতে একদিকে যেমন রোগীদের বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দক্ষতা, সাহসিকতা এবং রোগীর প্রতি আন্তরিকতার কারণে ডা. মো. আরিফ উল হাসান ইতোমধ্যেই শাহরাস্তিসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন সার্জন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার ধারাবাহিক সফল অস্ত্রোপচার মফস্বল অঞ্চলেও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।