বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করায় অটো রাইস মিলকে অর্থদন্ড

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১২:১২ এম
শাহরাস্তিতে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করায় অটো রাইস মিলকে অর্থদন্ড
শাহরাস্তি উপজেলায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ অমান্য করে চালের প্যাকেজিংয়ে কৃত্রিম মোড়ক ব্যবহারের দায়ে একটি অটো রাইস মিলকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় উপজেলার শিবপুর এলাকায় অবস্থিত মিম ও মিনা অটো রাইস মিলে উপজেলা প্রশাসন শাহরাস্তি ও পাট অধিদপ্তর, চাঁদপুর কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিদর্শন ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে দেখা যায়, পূর্ববর্তী পরিদর্শনের সময় দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালের প্যাকেজিংয়ে পাটজাত মোড়কের পরিবর্তে কৃত্রিম মোড়ক ব্যবহার করছে। বিষয়টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০-এর ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের শামিল এবং আইনের ১৪ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মালিকপক্ষকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন, শাহরাস্তি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউট  ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন পাট উন্নয়ন সহকারী ও মুখ্য পরিদর্শক কার্যালয়, পাট অধিদপ্তর, চাঁদপুরের মোঃ মাইনুদ্দিন এবং শাহরাস্তি মডেল থানার একদল পুলিশ সদস্য।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিল্লোল চাকমা বলেন, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্বেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে একই অনিয়ম পুনরাবৃত্তি করায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, সরকারি নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী চালসহ নির্ধারিত পণ্যের প্যাকেজিংয়ে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য, কৃষি অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আইন অমান্য করে কৃত্রিম মোড়কের ব্যবহার অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রতিপালনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ সুরক্ষা, পাটশিল্পের বিকাশ এবং সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নের স্বার্থে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলা এবং পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে মিম ও মিনা অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে চালের প্যাকেজিংয়ে শতভাগ পাটজাত মোড়কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।